অভিনব কায়দায় হলো টিম ম্যানেজমেন্ট নির্বাচন

অভিনব কায়দায় হলো টিম ম্যানেজমেন্ট নির্বাচন

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোর রূপান্তর ঘটিয়ে ডি থ্রি ট্রফি চালু করেছে। এই প্রতিযোগিতায় একই ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিচালনায় চারদিনের ম্যাচ, ৫০ ওভারের ওয়ানডে টুর্নামেন্ট এবং টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা একত্রে করা হয়েছে। আগে পৃথক আয়োজিত বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ এবং জাতীয় ক্রিকেট লীগের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করে একটি আয়োজনের অধীনে যুক্ত করা হয়েছে। বিসিবি কর্পোরেট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। প্রতিযোগিতা পরিচালনার অংশ হিসেবে গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রেস কনফারেন্স রুমে ম্যানেজমেন্ট ড্রাফটের আয়োজন করা হয়। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে রঙ ফেরাতে হবে’।

এই আহ্বান বাস্তবায়নে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের দল গঠনের কার্যক্রম শেষ করেছে। ড্রাফটে লটারির মাধ্যমে প্রতিটি দল হেড কোচসহ পাঁচজন করে কোচিং স্টাফ নির্বাচন করে। প্রথম বাক্সে লটারির মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ক্রম নির্ধারণ করা হয়। দ্বিতীয় বাক্সে ওঠানো নম্বর অনুযায়ী পছন্দের তালিকা থেকে কোচ নির্বাচনের সুযোগ প্রদান করা হয়। বিসিবি কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতিতে এই সংবাদ সম্মেলন কক্ষে লটারি অনুষ্ঠিত হয়। ম্যানেজমেন্ট ড্রাফটে অংশ নেয়া ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের হেড কোচ নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করেছে। এস ব্লুস্টার দল হেড কোচ পদে সোহেল ইসলামকে মনোনীত করেছে। এক্‌মি দলের ডাগআউট পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে রাজিন সালেহ। সিটিজেন্স ব্যাংকের হেড কোচ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মিজানুর রহমান বাবুল। ফরচুন দলের কৌশল নির্ধারণে হেড কোচ পদ পেয়েছে মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। সেভেন রিংস সিমেন্ট তাদের হেড কোচ হিসেবে দলভুক্ত করেছে তালহা জুবায়েরকে। ওয়ালটন ফ্র্যাঞ্চাইজির হেড কোচ পদে যুক্ত হয়েছেন আবদুর রাজ্জাক। প্রতিটি দল তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রাফটের তালিকা থেকে কোচদের বাছাই কার্যক্রম সরাসরি সম্পন্ন করেছে। দলগুলোর টিম ম্যানেজমেন্ট নির্বাচন নিয়ে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ডোমেস্টিক ক্রিকেটটাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে আমাদের যে প্রথম যে উদ্যোগ ডি থ্রি যে ট্রফি টুর্নামেন্টটা আমরা শুরু করতে যাচ্ছি আপনারা সকলে আমাদেরকে সহযোগিতা করছেন এবং আমরা আগামী দিনগুলোতেও আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করবো।

আজকে (গতকাল) যে ড্রাফটটি হয়েছে আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট হয়েছে আমাদের এখানে হেড কোচ, দুইজন এসিস্ট্যান্ট কোচ, একজন ফিজিওথেরাপিস্ট, একজন স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ এবং পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট এই ক্যাটাগরিগুলোতে আজকে আমাদের যে লিস্ট ছিল সেই তালিকা থেকে আমাদের ছয়টা টিমের যারা টিম ওনাররা আছেন বা টিমের যারা আইকন প্লেয়ার আছেন তারা এই ড্রাফটে অংশগ্রহণ করেছেন।’ ড্রাফটের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি দল মোট পাঁচজন করে সাপোর্ট স্টাফ নির্বাচন করার সুযোগ পায়। হেড কোচ ছাড়াও প্রতিটি দল সহকারী কোচ, ফিজিওথেরাপিস্ট, স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ এবং পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট বেছে নিয়েছে। লটারির ক্রমানুসারে শূন্য পদে সদস্য যুক্ত করার সুযোগ পায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। টিম ম্যানেজার এবং মিডিয়া ম্যানেজার নির্বাচনের দায়িত্ব সরাসরি দলগুলোকে প্রদান করা হয়। তবে এই দুই পদে নিয়োগের আগে বিসিবি’র অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম লটারির মাধ্যমে দলগুলোর ম্যানেজমেন্ট গঠন পরিচালনা করা হয়।

বিসিবি বোর্ডের কর্তারা সভাকক্ষে অবস্থান নিয়ে তা পর্যবেক্ষণ করেন। ডি থ্রি ট্রফি চালুর মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটের আগের কাঠামোর রদবদল ঘটেছে। পূর্বে বিসিএল চারদিনের ম্যাচ ও ৫০ ওভারের প্রতিযোগিতা পরিচালনা করা হতো। একই সঙ্গে এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আলাদাভাবে আয়োজন করা হতো। বিসিবি এসব প্রতিযোগিতা বিলুপ্ত করে এক কাঠামোর আসর চালু করেছে। কাঠামোটি বাস্তবায়ন করতে কর্পোরেট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। ফলে একই ফ্র্যাঞ্চাইজির অধীনে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ সব সংস্করণে অংশগ্রহণ করবে। তিন বছরের চুক্তিটি দলগুলোকে পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ এনে দিয়েছে। বিসিবি’র এই সিদ্ধান্তে ক্রিকেটের গতিশীলতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ডি থ্রি ট্রফিতে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট সম্পন্ন করার পর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো দলীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা শুরু করেছে।

ছয়টি দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিসিবি তদারকি ব্যবস্থা চালু রাখবে। প্রতিটি ফরম্যাটের খেলায় কৌশল নির্ধারণের জন্য নির্বাচিত কোচদের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ আলোচনা করবে। বিসিবি’র মূল লক্ষ্য ক্রিকেটীয় অগ্রগতি এবং খেলোয়াড়দের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। টিম ম্যানেজমেন্টের এই অভিনব নির্বাচন নিয়ে ফরচুন দলের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখানে যেটা আমাদের ড্রাফটের যে তালিকা দীর্ঘ তালিকা। এখানে হেড কোচের প্রায় ৩৫ জনের মতো নামের তালিকা আছে। তাদের যে ন্যাশনাল এবং অন্যান্য কমিটমেন্টগুলো আছে সেগুলো বিবেচনা করেই টিমগুলো তাদেরকে কল করেছে এবং আমাদের ড্রাফটের যে পলিসি এখানে রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ আছে যদি ন্যাশনাল কোনো কমিটমেন্ট বা আনঅ্যাভেলেবিলিটির কোনো কিছু থাকে টিমগুলো এটা রিপ্লেস করে নিতে পারবে।’