বৃটেনের মার্কিন ঘাঁটিতে রহস্যজনক তৎপরতায় ‘বিদেশি পক্ষ’ জড়িত

দাবি রুবিও’র

বৃটেনের মার্কিন ঘাঁটিতে রহস্যজনক তৎপরতায় ‘বিদেশি পক্ষ’ জড়িত

ফন্ট সাইজ:

বৃটেনের পশ্চিমাঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটির কাছে সাম্প্রতিক সন্দেহজনক তৎপরতার ঘটনায় ‘স্পষ্টতই কোনো বিদেশি পক্ষ’ জড়িত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটেছে।
ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়। কারণ তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘বৃটেনে গত সপ্তাহান্তে যা ঘটেছে এবং যা ঘটতে পারত, সেটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।’
রুবিও আরও বলেন, ‘এতে স্পষ্টতই কোনো বিদেশি পক্ষের হাত রয়েছে।’ তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য দেননি।

বৃটিশ কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা অত্যন্ত সহযোগিতা করেছে এবং বিষয়টি যথাযথভাবে মোকাবিলা করেছে। কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জামিনে মুক্তি দেয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র বৃটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানান তিনি।

কী ঘটেছিল ফেয়ারফোর্ডে?

গত রোববার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে গ্লস্টারশায়ার পুলিশ আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের দিকে এগিয়ে যাওয়া তিনটি ‘সন্দেহজনক যানবাহন’ সম্পর্কে একটি ফোনকল পায়।
এর কিছুক্ষণ পর, রাত ১টা ৩৬ মিনিটে স্থানীয় এক কৃষক পুলিশকে জানান, তিনি বিমানঘাঁটির কাছে হুডি ও মুখোশ পরা একটি বড় দল দেখতে পেয়েছেন।

এরপর বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে অবশ্য তাদের জামিনে মুক্তি দেয়া হয়।
ঘটনার পর গ্লস্টারশায়ারে ব্যাপক পুলিশি অভিযান চালানো হয়েছে এবং বিমানঘাঁটির আশপাশের এলাকা নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়।

এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী এলাকার ৮৫টি পরিবারকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেয়া হলেও সোমবার তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সন্দেহভাজনদের দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।

তবে বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযানটি ‘গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর’ ছিল না।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ফেয়ারফোর্ড?

আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রতিরক্ষামূলক হামলায় অংশ নেয়া যুদ্ধবিমানগুলোর যাত্রাবিরতির ঘাঁটি হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়েছে।

বিমানঘাঁটির মালিকানা বৃটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (এমওডি) হলেও বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তির আওতায় এর দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করে মার্কিন বিমানবাহিনী (ইউএসএএফ)।
ঐতিহাসিকভাবেও ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে উড্ডয়ন করা মার্কিন বিমান উপসাগরীয় যুদ্ধ, কসোভো যুদ্ধ এবং ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছে।