নড়াইল জেলা হাসপাতালের আউটসোর্সিং নিয়োগ ও প্রায় ৫ কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে লুকোচুরি চলছে। সম্প্রতি ৬টি গ্রুপে ৫ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া, কার্যাদেশ ও কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত তথ্য দিতে নারাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেইসঙ্গে আউটসোর্সিংয়ে লোক নিয়োগের ব্যাপারে মুখ খুলতে চাইছেন না।
এসব বিষয়ে হাসপাতালের সুপার ডা. আব্দুল গাফ্ফারের (সদ্য বদলি হওয়া) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নানা কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে হিসাবরক্ষক হুমায়ুন কবিরের দেয়া তথ্যানুসারে জানা যায়, ৬টি গ্রুপে ৫ কোটি টাকারও বেশি টাকার কাজ দেয়া হয়েছে রাজশাহীর ৩টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। তাদের মধ্যে মাইক্রো ট্রেডার্স এর মালিক নাছিমুল গনি খান রি-এজেন্টে ও লিলেন সামগ্রী সরবরাহ করেছেন। মেসার্স সাজনীন ট্রেডার্স এর মালিক আব্দুল লতিফ আসবাবপত্র সরবরাহ করেছেন। রাজশাহীর আরেকটি প্রতিষ্ঠান প্যারাগন এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহিদুল ইসলাম ওষুধ, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ও গজ-ব্যান্ডেজ সরবরাহ করেছেন। একাধিক সূত্রের দাবি তারা যথাযথভাবে কার্য সম্পন্ন করেননি। এমনকি মালের গুণগত মান সঠিকভাবে দেয়া হয়নি। তাদের সরবরাহকৃত মালামালের মান যাচাইয়ের ব্যাপারেও সদুত্তর দেননি সদ্য বিদায়ী জেলা হাসপাতালের সুপার ডা. আব্দুল গাফ্ফার। ৫ কোটি টাকার বেশি টেন্ডারের মালামাল সরবরাহের কাজ এতোটাই সঙ্গোপনে হয়েছে যে, হাসপাতালেরই অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানতে পারেননি। এ নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে-বাইরে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এদিকে আউট সোর্সিংয়ের কর্মচারীদের কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত জুন মাসে। আউট সোর্সিংয়ে ৪৫ জন লোক নিয়োগের কথা ছিল। অথচ রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রভাবশালীদের সন্তুষ্ট করতে ৪৫ জনের স্থলে প্রায় ৭৫ কর্মচারীকে দিয়ে কাজ করানো হয়। ওই ৪৫ জনের টাকা সকলের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হতো বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। অভিযোগ রয়েছে আউটসোর্সিংয়ের এ নিয়োগের সময় অনেকের নিকট হতে মোটা অংকের টাকা নেয়া হয়েছিল। চাকরি সরকারি হয়ে যাবে, অনেক টাকা বেতন দেয়া হবে এমন নানা প্রলোভন দিয়ে তাদের নিকট হতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় একটি চক্র। একটা সময় তারা বুঝতে পারেন যে, তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ে লোক নিয়োগের এ কাজটি পেয়েছেন মাছরাঙ্গা সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানের মালিক নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মধুরগাতী গ্রামের বাসিন্দা হেমায়েত হোসেন ফারুক। তিনি ২০১৮ সালের পর থেকে দেশের বিভন্ন এলাকায় আউটিসোর্সিং লোক নিয়োগের কাজ করে আসছেন।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের একাধিক আউটসোর্সিং কর্মী জানান, তারা দীর্ঘদিন যাবত সামান্য বেতন-ভাতায় হাসপাতালে সেবা দিয়ে আসছেন। গত জুন মাসে আগের ঠিকাদারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা কোনো বেতন-ভাতা পান না। তারপরও তারা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা তাদের অবদানের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখে বর্তমান ঠিকাদার তাদেরকে দিয়ে কাজ করাবেন। কিন্তু একটি চক্র আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ বহাল রাখার জন্য তাদের কারও কারও কাছে মাথা প্রতি ৩ লাখ টাকা করে দাবি করছেন। এ নিয়ে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের মধ্যে চরম হাতাশা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে আউটসোর্সিংয়ের ঠিকাদার হেমায়েত হোসেন ফারুক জানান, তিনি বা তার পক্ষে কোনো লোক আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগের জন্য কারও কাছ কোনো টাকা চাননি।
