চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনগুলো। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের পদত্যাগও দাবি করেছেন শ্রমিক নেতারা। মঙ্গলবার আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির উদ্যোগে জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবকাঠামো চট্টগ্রাম বন্দর। এ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়ার উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সভায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক বন্দর সিবিএ সেক্রেটারি কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, দেশের অর্থনীতি, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বন্দর পরিচালনার সুযোগ দেয়া উচিত নয়।
৫ই অক্টোবরের কর্মসূচিতে সর্বস্তরের শ্রমিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নয়; এটি জনগণের সম্পদ। বন্দরের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যথাযথ পর্যালোচনা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। বন্দরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়ার দাবি জানান তিনি। জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বলেন, বন্দরের শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তা মেনে নেয়া হবে না। বন্দরকে ঘিরে বহু মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল হওয়ায় শ্রমিকের অধিকার ও বন্দরের স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তারা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের পদত্যাগ দাবি করেন।
শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান ডিপি ওয়ার্ল্ডের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সভাপতির বক্তব্যে শ্রমিক নেতা মো. হারুন বলেন, বন্দর রক্ষার আন্দোলনে শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন থাকা উচিত নয়। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। সভায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, ডক শ্রমিক দল, বন্দর রক্ষা কমিটি, ট্রেড ইউনিয়ন ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভা থেকে ৫ই অক্টোবর বন্দরের প্রধান ফটকে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিতে শ্রমিক, কর্মচারী ও সর্বস্তরের মানুষকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
