পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সম্প্রতি গঠিত তিনটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। একইসঙ্গে পাহাড় থেকে সন্ত্রাস নির্মূল, পার্বত্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন এবং পাহাড়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার দুপুরে রাঙ্গামাটি শহরের কাঁঠালতলীর মৃধা ভবনে পিসিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হাবীব আজমের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান।
এ সময় পিসিএনপি রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিম, মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোরশেদা আক্তার, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুর হোসেন, পিসিসিপি রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপি নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, নীতি নির্ধারণ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার যে তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে, তা পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং পাহাড়ি-বাঙালির সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান। তবে নেতারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের দীর্ঘ সময় পরও পাহাড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ হয়নি। এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তারা।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিও জানানো হয়। পিসিএনপি নেতাদের দাবি, পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নে তার ভূমিকা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া পাহাড়ে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে ‘লিগ্যাল টাস্কফোর্স’ গঠন, জেলা পরিষদের ন্যস্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগগুলো পুনরায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেয়া, ১ শতাংশ উপজাতীয় কোটার পরিবর্তে পিছিয়ে পড়া সব জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অনগ্রসর কোটা’ চালু এবং পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদে জনসংখ্যার অনুপাতে সব জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বিদেশি এনজিওগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তদারকির ব্যবস্থার দাবিও জানায় সংগঠনটি।
