জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা ও মাইনুল হোসেন নিখিলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই অভিযোগপত্র করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)।
পরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কামাল আহমেদ মজুমদারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯শে জুলাই এবং ৪ ও ৫ই আগস্ট মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকা, পল্লবীর কিছু এলাকাতে ৫০ জনের বেশি নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন। এ ছাড়া, সেখানকার আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সশস্ত্র ক্যাডাররা ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগটি আনা হয়েছে। তিনি বলেন, এই মামলার সব আসামির নাম তারা এখন বলবেন না। কারণ আজ এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগের উপর শুনানি হয়নি।
‘আমার ৪০ বছরের ওকালতি ক্যারিয়ার’— কাঠগড়ায় কামরুল ইসলামের ক্ষোভ: গতকাল ট্রাইব্যুনালের এজলাসে আসামির কাঠগড়ায় বসে যখন কামরুল ইসলাম প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের উদ্দেশ্যে উঁচু স্বরে কথা বলছিলেন, তখন সুলতান মাহমুদ ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্যে বলেন, আসামি কাঠগড়ায় থেকে এভাবে উচ্চস্বরে কথা বলতে পারে না। উচ্চস্বরে কথা বলা আদালতের প্রতি চরম অবমাননাকর। এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, সুলতান মাহমুদ কোনো ভুল করেননি। এদিকে, জবানবন্দি গ্রহণের পর ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কামরুল ইসলাম দুর্ব্যবহার করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা একটি মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী নেতা কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে হানিফ মিয়ার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। এ সময় মেনন-কামরুল এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।
এদিন সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হানিফ মিয়া জুলাই আন্দোলনে কারফিউ চলাকালে রাজধানীর বাড্ডা-রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে সাক্ষী দিয়েছেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, এসব অপরাধের জন্য ১৪ দলের নেতারা দায়ী। কারণ তিনি টিভিতে এই নেতাদের মিটিং করে আন্দোলনকারীদের দমন-পীড়ন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা শুনেছিলেন। তখন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বলেন, আপনি ১৪ দলের নেতাদের কথা বলছেন, তাদের নাম বলেন। তখন আসামিদের জন্য সংরক্ষিত কাঁচের গ্লাসের ভেতর থেকে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী নেতা কামরুল ইসলাম প্রসিকিউটরের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, এভাবে বললে তো হবে না। আমার ৪০ বছরের ওকালতির ক্যারিয়ার। আপনি সাক্ষীকে দিয়ে জোর করে নাম বলাচ্ছেন। তখন সুলতান মাহমুদ কামরুল ইসলামের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি এভাবে সাউট করেন কেন। আপনার কিছু বলার থাকলে আইনজীবীর মাধ্যমে বলবেন। এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আমার মনে হয় জবানবন্দি গ্রহণে ভুল করেনি। প্রসিকিউশনের একটাই টার্গেট, একটাই উত্তর চাই। সাক্ষী ১৪ দলের কথা বলায়, তিনি নাম বলতে বলেছেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক বলেন, It is a matter of identification। আপনারা প্রশ্ন করে নাম বলাচ্ছেন। তখন মিজানুল ইসলাম বলেন, এটা লিডিং প্রশ্ন না। পরে সাক্ষী আবার তার জবানবন্দি দিতে থাকেন। উল্লেখ্য, গত ২৩শে জুন আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্যদিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হয়।
