ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)। রোববার সিজেপি দাবি করেছে যে, মুম্বই পুলিশ ২রা অক্টোবর তাদের প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। সিজেপি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা করেছেন যে, বিক্ষোভ প্রদর্শনের অনুমতি না পেলে সংগঠনটি গান্ধী জয়ন্তীতে মুম্বইয়ে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ শুরু করবে।
২রা অক্টোবর মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে গণবিক্ষোভের ডাক দিলেও সিজেপি জমায়েত করার অনুমতি পায় নি। জানানো হয়েছে, শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ আন্দোলন করা যায় না। সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, অনুমতি না মেলায় তারা ওইদিন জেল ভরো আন্দোলন করবেন। গ্রেপ্তার হবেন। তিনি বলেছেন, ‘দেখবো, মুম্বইয়ের জেলে কতো জায়গা রয়েছে।’ দীপকে বলেছেন, ‘মুম্বই পুলিশ ২রা অক্টোবর আমাদের বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। নাগরিক কণ্ঠস্বর দমানোর এই কৌশল গ্রহণযোগ্য নয়। গান্ধী জয়ন্তীতে সিজেপি জেল ভরো আন্দোলন শুরু করবে।’
জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে কয়েকদিন ধরে নাগাড়ে সুর চড়িয়ে যাচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। কমিশন প্রসঙ্গে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদন ঘিরে তোলপাড় হচ্ছে জাতীয় রাজনীতি।
দীপকে জানিয়েছেন, পুলিশ তাদের একটি লিখিত প্রত্যাখ্যানপত্র দিতে চেয়েছিল। তারা নিতে চাননি।
শিবাজি পার্কে অনুমতি না মেলায় সিজেপি নেতারা কোথায় জড়ো হবেন, জানা যায়নি। পুলিশ সংগঠনের নেতাদের কোথাও জড়ো হতে দেবে কি না, তা কিংবা আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে নেতাদের আগেই গ্রেপ্তার করবে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।
এদিকে, আগরায় জ্ঞানেশ কুমারের বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কংগ্রেসকর্মীরা। সোমবার সকালে কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হয়েছিলেন আগরার বিজয়নগরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বাড়ির সামনে। বাড়ির বাইরে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে সেøাগান দিয়েছেন তারা। বাড়ির মূলফটক এবং বাইরের দেওয়াল কালো কালি দিয়ে স্প্রে করে ‘গদ্দার’ লিখে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
এছাড়া জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলেছে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বিহারের পটনায় প্রতিবাদে নামে বাম দলগুলোও।
