বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষায় রিয়েল-টাইম নজরদারির তাগিদ বিএসইসি চেয়ারম্যানের

বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষায় রিয়েল-টাইম নজরদারির তাগিদ বিএসইসি চেয়ারম্যানের

ফন্ট সাইজ:

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ওপর প্রযুক্তিনির্ভর ও রিয়েল-টাইম নজরদারি ব্যবস্থা চালুর তাগিদ দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
তিনি বলেছেন, সব ব্রোকারেজ হাউজের জন্য একটি ইউনিফাইড ও অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘ব্যাক অফিস সফটওয়্যার’ চালু করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ও কাস্টমার ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্ট (সিসিএ)-এ থাকা অর্থের রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি প্রতিদিন অর্থের রিকনসিলিয়েশন করা সম্ভব হলে কোনো ঘাটতি বা অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা যাবে।
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আয়োজিত ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) তহবিল বিতরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। ব্রোকারেজ হাউজের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানান, পাঁচটি সিকিউরিটিজ হাউজে ৪৯২ কোটি টাকার আর্থিক অস্বচ্ছতার ঘটনায় বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার ভাষায়, এই পুঞ্জীভূত সমস্যার সমাধান প্রয়োজন ছিল এবং আইপিএফের মাধ্যমে অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ সেই প্রক্রিয়ার শুরু।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা আস্থা নিয়ে পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করেন। সেই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্যই নয়, পুরো পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থার জন্যও বড় বিষয়। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, ডিএসইর সঙ্গে শক্তিশালী ব্যাক অফিস সফটওয়্যার চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ব্রোকারদের রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া যাবে এবং প্রতিদিন পুরো আর্থিক হিসাব মিলিয়ে দেখা সম্ভব হবে।
ব্রোকারেজ হাউজের ব্যাংক হিসাবে কত অর্থ রয়েছে এবং সিসিএ হিসাবে কত টাকা রয়েছে—এসব তথ্য নিয়মিত যাচাই করার ওপর জোর দেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সরাসরি তদারকির চাপও কমবে। পাশাপাশি অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) নিয়েও এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এর আগে পুঁজিবাজারের নজরদারি জোরদারে বিএসইসি নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শন বাড়ানোর কথা জানিয়েছিল। ঝুঁকির ভিত্তিতে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে তদারকি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিষয়েও বিএসইসি চেয়ারম্যানের বক্তব্য এসেছে।
অনুষ্ঠানে আইপিএফের ভূমিকা তুলে ধরে মাসুদ খান বলেন, তহবিলটি মূলত সেটেলমেন্ট ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য গঠন করা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা সামনে আসায় তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রেও এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, আইপিএফের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৫ লাখ টাকার নিচে পাওনা থাকা বিনিয়োগকারীরা তাদের পুরো পাওনা ফেরত পাবেন। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৯৬ শতাংশের পাওনা এই সীমার মধ্যে বলে জানান তিনি।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি খেলাপি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ঘটনায় ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৩৩২ জনকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত তাদের পাওনার পুরোটা আইপিএফ থেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকার নিচে যাদের পাওনা রয়েছে তাদের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে ৫ লাখ টাকার বেশি পাওনা থাকা বিনিয়োগকারীদেরও পর্যায়ক্রমে অর্থ ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আইপিএফের অর্থ বিতরণ কার্যক্রমও কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব নয়; বিএসইসি, ডিএসই ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।