দেশের ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলাদেশ রোইং ২০২৬ ট্রেনিং অ্যান্ড সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’। রাজধানীর রোলার স্কেটিং স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ রোইং ফেডারেশনের সভাপতি এম. শোয়েব চৌধুরীর সভাপতিত্বে দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘দ্যা এশিয়ান এজ’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক কাজী জেসমিন চৌধুরী শিখা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মারগুব মোর্শেদ বলেন, “রোইং শুধু একটি খেলা নয়; এটি শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা, নেতৃত্ব ও অধ্যবসায় শেখায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের বাছাই করে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে সহায়ক হবে। আগামী দিনে এরাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।” তিনি এ ধরনের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার ওপর জোর দেন।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ রোইং ফেডারেশনের সভাপতি এম. শোয়েব চৌধুরী বলেন, “রোইং বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ খেলা এবং অলিম্পিকে এর ১৫টি স্বর্ণপদক রয়েছে। তবে বিগত সরকারের উদাসীনতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে ৫৪ বছরেও বাংলাদেশ রোইং কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি।” তিনি আরও জানান, রোইংয়ের সার্বিক উন্নয়নে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি কর্পোরেট খাত এগিয়ে এলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ পদক অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দ্য এশিয়ান এজ পত্রিকার সম্পাদক জেসমিন চৌধুরী বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নতুন মুখগুলোর মাধ্যমে রোইং দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে। একই সঙ্গে দেশের ঐতিহ্যের অংশ নৌকাবাইচও নতুন প্রাণ ফিরে পাবে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রোইংয়ের মতো সম্ভাবনাময় খেলাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান জেসমিন চৌধুরী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও রোইং ফেডারেশনের সহসভাপতি এম. খোরশেদ আলম বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ফেডারেশন সেভাবে এগোতে পারিনি। এই কমিটি এবং বর্তমান ক্রীড়াবান্ধব সরকারের উদ্যোগে রোইং ফেডারেশন নতুন করে জেগে উঠেছে। আমরা ইনশাআল্লাহ এইবার আন্তর্জাতিক অংগনে আলো ছড়াবো বলে প্রত্যাশা করি।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়কারী মো. রাশিম মোল্লা বলেন, দুই দিনের এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বাছাই করা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রোইং সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ ইমতিয়াজ করিম, মো. রেসাদ হাসান, নাসিরুজ্জামান চৌধুরী, মো. হুমায়ূন কবীর, মোস্তাক আহমেদ, রেবা কবির এবং মুহাম্মদ তারেক রাজীব উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ
প্রশিক্ষণে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, পদ্মা সরকারি কলেজ, হাজী মিছির আলী ডিগ্রি কলেজ, গভর্নমেন্ট শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সলিমুল্লাহ কলেজ, ঢাকা সিটি মডেল কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, শ্যামপুর সরকারি মডেল কলেজ, নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ, বারুয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন স্কুল, শ্যামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বটমলী হোম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মেট্রোপলিটন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মনিপুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লাইসিয়াম ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসাসহ মোট ২৫টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে সনদ গ্রহণ করে।
