আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে নিজেদের মিশন শেষে দেশে ফেরার পথে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস দল। আকস্মিক বন্যার কারণে থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন দলের পাঁচ খেলোয়াড় ও কোচ। দুই দিন পেরিয়ে আজ তৃতীয় দিনেও দেশে ফেরার নিশ্চয়তা মেলেনি তাদের। রোববার একই বিমানবন্দরে আটকা পড়েছে বাংলাদেশ পুরুষ কাবাডি দলও।
টেবিল টেনিসের আটকে পড়া দলের সদস্যরা হলেন রামহিম লিয়ান বম, ইমরুল কায়েস ইমন, সোনাম সুলতানা সোমা, নওরিন সুলতানা মাহি ও সামান্তা হোসেন তুষি। তাদের সঙ্গে রয়েছেন দলের কোচ ও ফেডারেশনের সদস্য মো. মোহসিনুল আলম ঝিনু।
বিমানবন্দরে কীভাবে সময় কাটছে, সেই দুর্ভোগের চিত্র জানিয়েছেন দলের অন্যতম সদস্য রামহিম লিয়ান বম। ব্যাংকক বিমানবন্দর থেকে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় কারও ওপর দোষ চাপানোর সুযোগ নেই। তবে এত দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে থেকেও এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আবাসনের কোনো ব্যবস্থা না পাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে।’
টিটি দলের কোচ মোহসিনুল আলম ঝিনুও জানিয়েছেন দলের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা। ব্যাংকক থেকে তিনি বলেন, ‘আমরা গত দুই দিন ধরে বোর্ডিং গেটের সামনে বসে রয়েছি। বেশ কয়েকবার থাই এয়ারওয়েজ ফ্লাইটের শিডিউল দিয়েও ফ্লাইট পরিচালনা করেনি। প্রথম দিন সবাইকে প্রতি বেলা ৪০০ বাথ করে দিয়েছিল। গতকাল থেকে সেটাও দিচ্ছে না। রাতে চেয়ারে বসেই পার করতে হচ্ছে।’
গত পরশু আকস্মিক বন্যায় ব্যাংককে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে বিমান চলাচলেও। তবে অন্য এয়ারলাইনগুলো ফ্লাইট পরিচালনা করলেও থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইট নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এ বিষয়ে ঝিনু বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান, ইউএস-বাংলার ফ্লাইট চলাচল করছে, মূলত থাই এয়ারওয়েজ যাচ্ছে না। আমরা অন্য এয়ারলাইনসে টিকিট পরিবর্তন করে দিতে বললেও তারা দিচ্ছে না।’
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত কাবাডি ও টিটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ফ্লাইট পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।’
তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দুই দলের সদস্যরা উল্লেখযোগ্য কোনো বার্তা বা সহযোগিতা পেয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল হক সাদী এবং খেলোয়াড় মুহতাসিন আহমেদ হৃদয় ভিন্ন ফ্লাইটের টিকিট থাকায় সৌভাগ্যক্রমে দেশে ফিরতে পেরেছেন। ফলে এশিয়ান গেমসের মিশন শেষ করেও সতীর্থদের দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে টেবিল টেনিস ও কাবাডি দলের সদস্যদের।
