ঢাকা ইপিজেডের পুরাতন জোনের কমার্শিয়াল ভবনের সামনে হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে হকারদের চাঁদা দাবির অভিযোগ ও আনসার সদস্যদের প্রকৃত অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছে বাহিনীর সদরদপ্তর। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র টেনে বাহিনী জানিয়েছে, রবিবার সকাল ৯টা থেকে ঢাকা প্রশাসনিক জোনের আশুলিয়া উপজেলাধীন ঢাকা ইপিজেড কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পুরাতন জোনের কমার্শিয়াল ভবনের সম্মুখভাগে অবৈধভাবে স্থাপিত অস্থায়ী দোকানপাট উচ্ছেদে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ঢাকা ইপিজেডে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্য এবং বেপজা সিকিউরিটি গার্ড সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ইপিজেড এলাকার নির্ধারিত স্থান, ফুটপাত ও চলাচলের পথ দখলমুক্ত রাখা এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা। অভিযান চলাকালে হকারদের অস্থায়ী দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলে তারা তা সরিয়ে নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সদরদপ্তর জানিয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হকারদের পক্ষ থেকে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের বক্তব্য ও মাঠপর্যায়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উক্ত কার্যক্রমটি ছিল ঢাকা ইপিজেড কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পরিচালিত হকার উচ্ছেদ অভিযান; আনসার সদস্যরা সেখানে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযানের সঙ্গে চাঁদা আদায়ের কোনো কার্যক্রমের সম্পর্ক ছিল না। একই সময়ে কোনো আনসার সদস্য আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেনি।
বাহিনীটি জানায়, অভিযানটি সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে শেষ হয়। এ সময় সৃষ্ট পরিস্থিতি পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আনসার সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। ফলে হকারদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগকে উচ্ছেদ অভিযানের প্রকৃত কার্যক্রম ও দায়িত্ব পালনের ঘটনাপ্রবাহ থেকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সদরদপ্তর জানায়, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, সততা ও পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বাহিনীর অবস্থান সুস্পষ্ট। একই সঙ্গে কোনো ঘটনার সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য ও প্রকৃত ঘটনাপ্রবাহ যথাযথভাবে যাচাই করে তা পাঠকের সামনে উপস্থাপনের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
