ধর্মভাবনা পশ্চিমবঙ্গে দুগাপুজো উপলক্ষে জাঁকিয়ে বসেছে। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই উগ্র হিন্দুত্ব মাথা চাড়া দিতে শুরু করেছে। এবার সরাসরি রাজনীতিতে তার প্রভাব পড়ছে। সনাতনপন্থিদের যত রাগ এখন বামপন্থি তথা কমিউনিস্টদের ওপর। কমিউনিস্টিদের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদীদের বড় অভিযোগ এরা নাস্তিক। তাই তারা হিন্দুবিরোধী।
এবারের দুর্গাপুজোয় সেই সংঘাতকে আগেই উস্কে দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বামপন্থি দলগুলো প্রতি বছর পূজামণ্ডপের কাছে মার্ক্সীয় সাহিত্যের যে স্টল দেয়, মূলত সেসব স্টলের কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, ওই সব স্টলে দুর্গাপূজার বদলে শারদোৎসব লেখা হয়ে থাকে। এবার আর তা লেখা যাবে না; লিখতে হবে দুর্গোৎসব।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ফতোয়ার পর উৎসাহিত সনাতনপন্থিরা এবার বামবধে মাঠে নেমে পড়েছে। গোটা কলকাতায় সয়লাব হয়েছে একটি পোস্টারে। তাতে লেখা হয়েছে, এবার পুজোয় বামবধ। কোনো বামপন্থি সংগঠনকেই মার্ক্সীয় সাহিত্যের স্টল করে বসতে দেয়া হবে না। পূর্ব কলকাতার ট্যাংরার একটি পুজো কমিটি প্রকাশ্যে এই ঘোষণা দিয়ে পোস্টারও লাগিয়েছে বলে দাবি করেছে। তারা সব পুজো কমিটিকেই এ ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্যাংরার পুজো কমিটির প্রধান কর্তা সুরজ কুমার সিং জানিয়েছেন, ‘কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতির তরফে সারা কলকাতায় আমরা পুজোর ব্যানার টাঙাচ্ছি। তার মূল কথা, এবার পুজোয় বামবধ। এটা আমাদের সেøাগান। এবার আমরা কোনো বামপন্থি, কমিউনিস্টদের স্টল করতে দেবো না। এটা ব্যানার লাগিয়ে আমরা স্পষ্ট বলে দিয়েছি। কমিউনিস্টরা হিন্দুধর্মকে অপমান করে, সাধুসন্তদের অপমান করে, সনাতন ধর্মকে অপমান করে, মা কালীকে উপহাস করে, তাদের কোনো স্টল আমরা দুর্গাপুজোয় বসতে দেবো না। অন্যান্য পুজো কমিটির কাছেও আমাদের এই আবেদন।’
এমন ‘ফতোয়া’কে অবশ্য পুজো কমিটির নিজের ইচ্ছা বলে মানতে নারাজ বামপন্থিরা। সিপিআইএমের প্রতিক্রিয়া, পুজো কমিটির ঘাড়ে বন্দুক রেখে বিজেপি এই কাজ করছে। মণ্ডপের আশপাশে কারা কী করবে, তা বলার এখতিয়ার নেই কারও। সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেছেন, ‘আসলে মুখ্যমন্ত্রী নিজে সরাসরি একথা বলতে পারছেন না। তাই পুজো উদ্যোক্তাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে এসব বলতে চাইছেন। তবে আমরা বলতে চাই, পুজো মণ্ডপের বাইরে আশপাশের জায়গাটা কারও কেনা নয়। তাই ওখানে কে কী করবে, কেউ বলে দিতে পারে না। আমাদের যদি সরকারের তরফে একথা বলা হয়, তাহলে সেটা আমরা দেখে নেবো।’
