ভারতে গত চার বছরে মোট ১১১ জন সাংসদ এবং বিধায়ক দলবদল করেছেন। দলবদল করা এই ১১১ জনের মধ্যে ২১ জন লোকসভার সাংসদ, সাত জন রাজ্যসভার সাংসদ এবং ৭৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। ভারতের নির্বাচন নজরদারি সংস্থা এসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্ম (এডিআর) ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলবদলের ফলে লাভবান দলগুলোর তালিকায় প্রথমে রয়েছে নাগা পিপল্স ফ্রন্ট (এনপিএফ)। এই দলে যোগ দিয়েছেন মোট ৩২ জন, যা মোট দলবদলের ২৯ শতাংশ। আর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। দলবদল করা জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ২৬ শতাংশই গিয়েছেন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপিতে। তবে একক ভাবে দলবদলের ক্ষেত্রে বিজেপিতেই গিয়েছেন সবচেয়ে বেশি নেতা।
দলবদলের নিরিখে তৃতীয় স্থানে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসত্যাগী সাংসদদের দল এনসিপিআই। পশ্চিমবঙ্গের ২০ জন (মোট দলবদলের ১৮ শতাংশ) লোকসভা সাংসদ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সরকার পরিবর্তনের পর তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন এবং বিজেপি’র নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছেন।
এডিআর’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১৭টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে দলবদল ঘটেছে। সে দিক থেকে ধরলে নাগাল্যান্ডের (৩২ জন) পরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (২০ জন)। এরপর যথাক্রমে তেলঙ্গানা (৯ জন), গোয়া (৮ জন) এবং পাঞ্জাব (৮ জন)। এডিআর উল্লেখ করেছে, তাদের প্রকাশিত তালিকায় খামতি থাকতে পারে। কারণ, নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডারে পদ্ধতিগত ভাবে সংরক্ষিত এবং সহজলভ্য তথ্যের অভাব রয়েছে।
যে ২৯ জন আইনপ্রণেতা গত চার বছরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাদের সাত জন রাজ্যসভার সাংসদ এবং ২২ জন বিধায়ক। রাজ্যসভার সাত সাংসদই আম আদমি পার্টির টিকিটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সমপ্রতি আপের হাত ছেড়ে তারা বিজেপি শিবিরে গিয়েছেন। এ ছাড়া, গোয়া থেকে কংগ্রেসের আট বিধায়ক, গুজরাট থেকে কংগ্রেসের চার বিধায়ক এবং হিমাচল প্রদেশ থেকে দু’জন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (এনডিপিপি), তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস। এই তিন দল থেকেই সবচেয়ে বেশি সাংসদ ও বিধায়ক অন্য দলে গিয়েছেন।
