আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক দুই শতাধিক

জাসদ কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান

আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক দুই শতাধিক

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সন্দেহে প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যকেও আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছেন- এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া কার্যালয়ের ভেতর থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়া হয়েছে এবং সেখানে বৈঠক চলছে- এমন তথ্যও পুলিশের কাছে আসে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। আটককৃতদের পল্টন ও শাহজাহানপুর থানায় নেয়া হয়েছে এবং তাদের যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানায় থানা পুলিশ।
শনিবার দুপুর থেকে জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের চার শতাধিক নেতাকর্মী গোপন বৈঠক করছেন- এমন অভিযোগ তুলে জাসদ কার্যালয়টি ঘিরে রাখেন যুবদল ও বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, কার্যালয়ের ভেতর থেকে ‘জয় বাংলা’ স্ল্লোগান দেয়া হয়েছে।

পরে বিষয়টি জানতে পেরে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং পল্টন থানা যুবদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়টি ঘিরে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। বিকাল ৪টার দিকে পুলিশ ধাপে ধাপে কার্যালয়ের ভেতর থাকা লোকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে বের করে আনতে দেখা যায়। অভিযান চলাকালে জাসদ কার্যালয়ের সামনে যুবদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পল্টন মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জাসদ কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে পল্টন থানা ও শাহজাহানপুর থানায় রাখা হয়েছে। সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। জাসদের প্রতিনিধি সভার জন্য অনুমতি চাওয়ার প্রসঙ্গে ওসি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। ডিএমপি’র গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়া হয়েছে। সেখানে বৈঠক চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অনেককে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে।

এদিকে জাসদ দাবি করেছে, তারা প্রতিনিধি সভায় মাইক ব্যবহার ও সভার নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ও ডিএমপি’র মতিঝিল বিভাগের ডিসি বরাবর গত ২৩ ও ২৪শে সেপ্টেম্বর আবেদন করেছিলেন। আবেদনগুলো রিসিভও করা হয়। এরপরও শানিবার তাদের কার্যালয়ে হামলা ও অভিযান চালানো হয়।

জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এদিন জাসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা ছিল। সারা দেশ থেকে প্রায় ৪০০ নেতাকর্মী প্রতিনিধি সভায় যোগ দেন। সকাল সাড়ে ১০টায় তাদের অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা এসে তাদের নেতাকর্মীদের মারধর করেন। সেখানে পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। পরে বিকালে পুলিশ এসে নেতাকর্মীদের আটক করতে শুরু করে। তাদের কোনো নেতাকর্মী বের হতে পারেননি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, আমরা খবর পাই এখানে আওয়ামী লীগের দোসররা মিটিং করছে। পরে যুবদলের নেতৃবৃন্দরা কার্যালয়টি ঘিরে রাখে। আওয়ামী লীগের দোসররা কোথাও মিটিং মিছিল করতে পারবে না। আমরা তাদের গায়ে হাত তুলিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা সহযোগিতা করে যাচ্ছি। কোর্ট যদি আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দেয় তাহলে রাজনীতি করতে পারবেন, কিন্তু কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় কোনো দোসর যেন আমাদের সামনে না পড়ে।