কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে মামলাটির তদন্ত করবেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ। এর আগে মামলাটির তদন্ত করছিলেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বলেন, পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ দেয়া হয়েছে। নথিপত্র পাওয়ার পর তদন্তের কাজ শুরু করবেন তিনি।
দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি। এর আগে এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব এখন পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদকে দেয়া হয়েছে। দু’-একদিনের মধ্যে মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র তার কাছে হস্তান্তর করা হবে। সদর দক্ষিণ থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে মামলাটির তদন্ত করবেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তিনজনের স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে। তবে ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ই সেপ্টেম্বর বিকালে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম।
এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। ওই দিন তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন ১৯শে সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন তার বাবা।
মা-বাবাকে হয়রানির অভিযোগে জিডি: কুমিল্লায় হত্যার শিকার ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও তার স্বামী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে ফোনে হয়রানি করার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। তাদের সন্তানের মৃত্যুর পর থেকে বিভিন্ন নম্বর থেকে কল দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে জানিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিম ও তার পরিবারকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছেন তারা। শুক্রবার সন্ধ্যায় অপ্রতিমের বাবা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় এ জিডি করেন। তিনি বলেন, ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অপ্রতিম ও আমাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে আমাদের দু’জনের (তার স্ত্রী) ফোনে বিভিন্ন নম্বর থেকে কল করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এসব কারণে আতঙ্কে অপ্রতিমের মা তার ফোন নম্বর বন্ধ রেখেছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। ড. নাহিদা বেগম জানান, অপ্রতিমের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও আইডি থেকে তাদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে নানা ধরনের কথা বলা হচ্ছে।
শোকের মধ্যে নতুন করে মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন তারা। সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে হয়রানির অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা একটি জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও অপ্রতিমের মুঠোফোনের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৬) এবং জড়িত সন্দেহে মো. সিয়াম (১৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২০শে সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, আইফোন ছিনিয়ে নেয়ার জন্য অপ্রতিমকে মাথায় বাঁশ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় ওই তিনজন। ওই দিন সিয়াম ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিনজন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের আদেশে ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।
