বিসিএস’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের দাবি

বিসিএস’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের দাবি

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন ও পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন ক্যাডারের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিস গঠনে প্রশাসন ক্যাডারের ডিএস পুলে নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী অবসরপ্রাপ্ত ২৫ ক্যাডার সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুক, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক ড. মো. কামরুজ্জামান কায়সার।

বক্তারা বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে একটি দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার সিভিল সার্ভিস গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সেক্টরের নীতি নির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

তারা বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন সেক্টরের নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ওপর কেন্দ্রীভূত। সংশ্লিষ্ট সেক্টর সম্পর্কে বিশেষায়িত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা না থাকায় এতে জনসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ প্রশাসনের নিজস্ব দায়িত্বের ক্ষেত্রেও নানা অব্যবস্থাপনা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

বক্তারা আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হলেও একটি ক্যাডারের অসহযোগিতার কারণে তা সফল হয়নি। রাষ্ট্রের সব ক্যাডারের মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করে সমন্বিত ও পেশাদার সেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক সংস্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্যাডারের সাবেক সদস্যদের লেখা ‘লাল ফিতায় বন্দি জনসেবা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক নাসরিন বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মাহফুজ আহমেদ ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কৃষিবিদ মো. আরিফ হোসেন বক্তব্য দেন।

আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সদস্য ড. মুহম্মদ মফিজুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি ১৯৮০ সালের ২রা সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদন তুলে ধরে সিভিল সার্ভিসের অভিন্ন সূচনা ও পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেন। ওই সময়ের সংবাদপত্রের শিরোনামের বাংলা ভাবার্থ হিসেবে ‘ঔপনিবেশিক কাঠামোর অবসান’, ‘কোনো বিসিএস ক্যাডারের জন্য অভিজাত সুবিধা নয়’ এবং ‘অভিন্ন সিভিল সার্ভিস চালু’—এ ধরনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ঘোষণা দেন। এ উপলক্ষে প্রতিবছর দিনটি সিভিল সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।