স্কুলে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি কিছু শ্রেণিতে ইতালীয় ভাষায় সীমিত দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর সংখ্যার ওপরও সীমা নির্ধারণ করেছে ইতালির সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, এসব পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের সমাজের মূলধারায় একীভূত হতে সহায়তা করবে এবং ‘ঘেটো শ্রেণি’ গড়ে ওঠা ঠেকাবে।
উল্লেখ্য, ঘেটো শ্রেণি বলতে অভিবাসীদের ভিন্ন ভাষা নিয়ে ভীতি এবং তাদের ভাষা বিষয়ক বিকল্প ব্যবস্থাকে বোঝানো হয়। অনলাইন আরটি এ খবর দিয়ে বলছে, বৃহস্পতিবার গৃহীত ডিক্রিতে স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমে এমনভাবে মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হয়। এর আওতায় বোরকা ও নিকাব পড়েছে। তবে হিজাব এতে নিষিদ্ধ হচ্ছে না, কারণ এতে মুখ ঢাকা থাকে না। নিয়ম ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো জরিমানা হতে পারে। সরকার প্রথম শ্রেণিতে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই- এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ৩০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে, যারা ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেনি অথবা অন্তত দুই বছর প্রাক্-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েনি। নিম্ন ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে তাদের জন্য, যারা অন্তত তিন বছর ইতালির স্কুল ব্যবস্থায় পড়াশোনা করেনি। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে অন্য কোথাও ভর্তি করানো সম্ভব না হলে এবং তার জন্য অতিরিক্ত ভাষা সহায়তার ব্যবস্থা করা হলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই সীমা থেকে ছাড় দিতে পারবে।
এক্সে দেয়া এক পোস্টে মেলোনি এসব পদক্ষেপকে সাধারণ বোধবুদ্ধির হাতিয়ার, যা বিভাজন তৈরি করে না; বরং সত্যিকার অর্থে একীভূত হতে সহায়তা করে, ঘেটো শ্রেণি গড়ে ওঠা ঠেকায় এবং সব শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগ দেয়- বলে বর্ণনা করেছেন। টেলিভিশনে দেয়া এক বক্তব্যে মেলোনি বোরকা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে নিরাপত্তার বিষয় বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যখন কোনো নারী, কিংবা আরও খারাপভাবে কোনো অল্পবয়সী মেয়েকে মুখ ঢাকতে বাধ্য করা হয়, তখন তার মৌলিক অধিকার এবং যে একীভূত হওয়ার কথা প্রায়ই জোর দিয়ে বলা হয়, তার দুটিই কেড়ে নেয়া হয়। রোববার মেলোনি প্রথম এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেন তার দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব শাখার একটি সমাবেশে। ইতালিতে এর আগে ২০১০ সালে নমনীয় একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। সেখানে একটি শ্রেণিতে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই- এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার সুপারিশ করা হয়। নতুন ডিক্রির মাধ্যমে সেই বিধিনিষেধকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা হলো। এটি কার্যকর রাখতে হলে ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন পেতে হবে। ইতালিতে মুখ ঢেকে রাখার পোশাক নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের মধ্যেই নতুন এই পদক্ষেপ নেয়া হলো। গত বছর মেলোনির দল জনসমক্ষে পুরো মুখ ঢেকে রাখা পর্দা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই বিল এখনো সংসদে পাস হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়েই পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাকের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ জোরদার হয়েছে। ২০১১ সালে ফ্রান্স জনসমক্ষে এ ধরনের পোশাক নিষিদ্ধ করে। ২০১৮ সালে ডেনমার্কও একই পদক্ষেপ নেয়। আর সুইজারল্যান্ডে দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় ২০২৫ সালে। ডেনমার্ক স্কুলেও এই নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করেছে। এদিকে ইউরোপীয় বিচার আদালত ২০২৩ সালে রায় দিয়েছে, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রশাসনিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বোরকা ও হিজাবের মতো ধর্মীয় পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।
