হামাসের হামলার আগে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিল আমিরাত

হামাসের হামলার আগে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিল আমিরাত

ফন্ট সাইজ:

ফিলিস্তিনের যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাস বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে বলে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সতর্ক করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ বিষয়ে ফোনালাপ সম্পর্কে অবগত ব্যক্তি এবং ইসরাইলের সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুকে ফোন করে হামাস হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তথ্য দেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ। তবে হামাস রকেট হামলা চালাবে, নাকি স্থলপথে ইসরাইলে ঢুকে হামলা চালাবে সতর্কবার্তায় তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

হামাসের হামলার ছয় দিন আগে ১লা অক্টোবর নেতানিয়াহু ইসরাইলের নিরাপত্তাপ্রধানদের সঙ্গে যে বৈঠক করেন, সেখানে এই তথ্য তোলা হয়নি বলে জানিয়েছেন দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে কথা বলা ইসরাইলের সাবেক পাঁচজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। পত্রিকাটি ওই বৈঠকের কার্যবিবরণীও পর্যালোচনা করেছে। বৈঠকে নেতানিয়াহু গাজায় পরিস্থিতি শান্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা গাজা থেকে হামলার সঙ্গে জড়িত হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরাইলের হামলার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে যে পরামর্শ দিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু তার বিরোধিতা করেন বলে বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু আরও জানিয়েছিলেন, গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সে সময় তিনি মনে করতেন, সৌদি আরবের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কাছাকাছি। চলতি মাসের শুরুতে ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজ প্রথম এই সতর্কবার্তার খবর প্রকাশ করে। তখন বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৭ই অক্টোবরের হামলার প্রায় ১০ দিন আগে বিন জায়েদ নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হামাস বড় ধরনের একটি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন তথ্য পাওয়ার পর তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এএফপির প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার এক সাবেক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন, সংগঠনটি একটি বড় ধরনের বা ‘ভয়াবহ’ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই সাবেক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা তথ্যটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন উপদেষ্টাকে জানান। পরে ওই উপদেষ্টা তথ্যটি বিন জায়েদকে জানান। এরপর ইউএইর প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।