এসবিপি’র আলোচনায় বক্তারা- স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে হলে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ

ফন্ট সাইজ:

দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে হলে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। না হলে দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ওয়ার্ল্ড ফার্মাসিস্ট ডে-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সোসাইটি অফ বাংলাদেশি ফার্মাসিস্টস (এসবিপি)-এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংগঠটির উদ্যোগে এর আগে রাজধানীতে একটি র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

এসবিপি’র আহ্বায়ক মো. জাকারিয়া হোসাইনের সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি’র স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, ইউজিসি’র সদস্য ড. আসলাম হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. মামুনুর রশিদ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. শফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. সেলিম রেজা, সংগঠনের সদস্য সচিব শামসুল আলম রিপন প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মো. আব্দুর রশিদ।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অর্থ বা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও জাতীয় সমৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ইলেকট্রনিক হেল্থ কার্ডের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একটি ইলেকট্রনিক হেল্থ কার্ডের মাধ্যমে একজন রোগীর চিকিৎসার অধিকার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে দেশের হাসপাতাল, ক্লিনিক, ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। চিকিৎসকের দায়িত্বের পাশাপাশি রোগীর প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রিজভী বলেন, দেশে ভেজাল ও নিম্ন্নমানের ওষুধের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়। এর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের ওষুধশিল্পকে আরও শক্তিশালী ও মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে। রিজভী আরও বলেন, শান্তি ও সমৃদ্ধির যে লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে, তা অর্জনের জন্য জাতীয় ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ। আর সমৃদ্ধি বলতে শুধু মানুষের আয় বা খাদ্য কেনার সক্ষমতা বোঝায় না; একজন মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সক্ষমতাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে পেশাজীবীদের জ্ঞান, দক্ষতা, চিন্তা, উদ্ভাবন ও নতুন ধারণাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, অতীতে বিভিন্ন সেক্টরে দলীয়করণ ও দখলদারিত্বের মাধ্যমে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভবিষ্যতে এসব খাতকে উন্নত করতে পেশাজীবীদের চিন্তা, উদ্ভাবন ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলাদেশকে শান্তিময় ও সমৃদ্ধিশালী করতে স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।