ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামের মাহিদা নামের (৭) বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে হাজী আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মাহিদা ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোজ্জামেল মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের অভিযোগ, মাহিদাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে তার চাচাতো চাচা জাহিদুল।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানান, নিহত মাহিদা বাড়ির পার্শ্ববর্তী স্থানীয় মৈশাইর গ্রামের একটি মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে বড় বোনের সঙ্গে পড়াশোনা করে আসছিল। গত দুই মাস ধরে মহিলা মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করছিল। দুই মাস পর বৃহস্পতিবার বিয়ে উপলক্ষে বাড়িতে আসে। শুক্রবার দুপুরের দিকে মাহিদার মা ডাক্তার দেখানোর জন্য উপজেলা শহরে যান। এ সময় তিনি তার দুই মেয়েকে ঘরে রেখে যান। পরে চাচাতো চাচা জাহিদুল ভাতিজি মাহিদাকে পানি খাওয়ার কথা বলে একটি বসতঘরে ডেকে নিয়ে যায়।
সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে হত্যা করে। পরে মাহিদার মা মনিরা বেগম তার মেয়ের খোঁজ না পেয়ে সন্দেহবশত জাহিদুলের ঘরে প্রবেশ করলে তার মেয়েকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার আর্তচিৎকারে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে অচেতন অবস্থায় মাহিদাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এদিকে, ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্ত জাহিদুলের বাড়ি ভাঙচুর করে। পরে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম শফিকুল আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ধর্ষক জাহিদুলকে আটক করে নিরাপত্তার জন্য এলাকার একটি ভবনে নিয়ে রাখেন। এ সময় আসামি জাহিদুলকে ছিনিয়ে নিতে কয়েকশ’ উত্তেজিত জনতা ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এ পর্যায়ে পুলিশের ওপরও ইটপাটকেল ছুড়ে। আসামি জাহিদুলকে জনতার হাতে তুলে দিতে এলাকাবাসী মিছিল করতে থাকে। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার চেষ্টায় বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতিতে জনতাকে হটিয়ে জাহিদুলকে পুলিশের পিকআপে তুলে নিয়ে যায়। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন জানান, নিহত শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। শিশুটির শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের পর ধর্ষণ ও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত জাহিদুলকে আটক করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে সে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
