নির্বাচন প্রক্রিয়াকে যদি ত্রুটিপূর্ণ ও কারচুপিযুক্ত বলে মনে হয়ে থাকে, তাহলে সেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন কেন? সিস্টেম বদলাতে চাইলে ভোট প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকুন। দেশের বিরোধী দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তেলাপোকা (ককরোচ) জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেছেন, ‘হ্যাঁ, এ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় কারচুপি হচ্ছে। কিন্তু আপনারা লাগাতার এই নির্বাচনগুলোতে অংশ নিয়ে সেগুলোকে বৈধতা দিয়ে দিচ্ছেন।’ অবশ্য বিরোধী দলগুলো দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ফের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে একজোট হয়েছে। সূত্রের খবর, সংসদের দুই কক্ষেই নোটিশ জারি করা হতে পারে। তার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। নোটিশের স্বপক্ষে আইনি পরামর্শও নিচ্ছে বিরোধীরা।
ভারতীয় সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো রীতিমতো সমালোচনার পথে নেমে পড়েছে। কেউ বলছেন, বাংলা, বিহারসহ একাধিক রাজ্যে পুনঃনির্বাচন করতে হবে, কেউ বলছেন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাই, কেউ বা বলছেন, এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো বিরোধী দলই বলেনি, জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে যে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে সেটা সুষ্ঠু নয়, কারচুপি যুক্ত। তাই এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আমরা অংশগ্রহণ করবো না।
বিরোধীদের এই অবস্থানকে দ্বিচারিতা বলে মনে করছেন তেলাপোকা জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তার বক্তব্য, আপনারা যে খেলাটাকে অবৈধ বলে দাবি করছেন, সেই খেলাতেই অংশ নিচ্ছেন। এতে তো খেলাটাই বৈধতা পাচ্ছে। এক্স হ্যান্ডেলে দীপকে বলেছেন, আপনারা যদি কারচুপির নির্বাচনে অংশ নেন তাহলে নির্বাচন অবাধ এবং স্বচ্ছ এমন একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতার অভিযোগ, রাজনৈতিক দলগুলো ভোটে অংশ নিচ্ছে শুধু নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ভোটে অংশ নিচ্ছে। তার প্রশ্ন, যে সিস্টেমে ভোট চুরি হয়ে যাচ্ছে, আপনাদের বিধায়ক-সাংসদদের ভাঙিয়ে নেয়া হচ্ছে, দল ভেঙে দেয়া হচ্ছে, তখন কোন অস্তিত্ব বাঁচানোর চেষ্টা করছেন?
তার স্পষ্ট কথা, যে সিস্টেম আপনাদের দুর্বল করে, দল ভেঙে দেয়, সাংসদ-বিধায়কদের ভাঙিয়ে নেয়, সেই ব্যবস্থা এভাবে কতোদিন টিকে থাকা সম্ভব? এদিকে গত বৃহস্পতিবারই তেলাপোকা জনতা পার্টি জ্ঞানেশ কুমারকে ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে। জানিয়ে দেয়া হয়েছে, ওই সময়সীমার মধ্যে ইস্তফা না দিলে ফের আন্দোলনে বসবেন তারা।
“জ্ঞানেশ কুমার যদি শনিবারের মধ্যে পদত্যাগ না করেন, তবে তেলাপোকা জনতা পার্টি ২রা অক্টোবর মুম্বই থেকে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করবে এবং তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেবে,” বলেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
দলটি জানিয়েছে যে, গান্ধী জয়ন্তীর দিন মুম্বইয়ে এই বিক্ষোভ শুরু হবে এবং পরবর্তীতে তা দেশের বিভিন্ন শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু সে তুলনায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অনেক নরম। তিনি আক্রমণ করছেন মোদি-শাহকে।
তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বটে তবে জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবি ততটা জোর দিয়ে করছেন না। বরং তিনি চান জ্ঞানেশ কুমারকে রাজসাক্ষী করতে। এই পরিস্থিতিতে দীপকের এই মন্তব্য বিরোধীদের ওপরও চাপ বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
