ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আদানিরা পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক লাখ কোটি রুপি (এক ট্রিলিয়ন) বিনিয়োগ করবে। গভীর সমুদ্রবন্দর ও ডেটা সেন্টার থেকে শুরু করে দুর্গাপূজা- পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন আদানিগোষ্ঠীর ছাপ পড়তে চলেছে। শিল্পপতি গৌতম আদানি বৃহস্পতিবার কলকাতায় বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিকাশ না হলে ভারতের বিকাশ হবে না। এই বাংলা (পশ্চিমবঙ্গ) থেকে ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি উঠেছিল। ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে পরিকাঠামো খাতে এক লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। গুজরাটের পর পশ্চিমবঙ্গই হবে আদানি শিল্পগোষ্ঠীর বৃহত্তম বিনিয়োগ।
আদানি বলেছেন, ‘আমরা ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ১ লাখ কোটি রুপিরও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছি। এই বিনিয়োগ বন্দর, লজিস্টিকস, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বণ্টন, সড়ক, সেতু ও রোপওয়ে, গ্রিন সিমেন্ট এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে করা হবে।’ পাশাপাশি, আদানিগোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় তারা ‘রাইটার্স বিল্ডিংস’-এর সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার এবং ‘আদানি পুজো প্রিভিউ’-এর মাধ্যমে কলকাতার দুর্গাপূজায় অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গৌতম আদানির মতে, ভারতের বিশাল শিল্প-বলয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ হলো এক স্বাভাবিক সামুদ্রিক ও লজিস্টিকস সেতুবন্ধন। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং তারও বাইরের সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য বাংলা সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কলকাতার নিউটাউনে বৃহস্পতিবার একটি দুই হাজার শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তরের সূচনা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মুহূর্তটিকে ‘ঐতিহাসিক, তাৎপর্যপূর্ণ ও শুভ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি কেবল একটি সূচনা মাত্র। একটি শক্তিশালী বাংলা (পশ্চিমবঙ্গ) গড়ে তোলার লক্ষ্য কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।
গৌতম আদানি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেবল বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি গুজরাটের মুন্দ্রার সঙ্গে এর তুলনা টানেন, যা বর্তমানে তার গোষ্ঠীর বিশাল সব প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। আদানি আরও বলেছেন, ‘তিন দশক আগে গুজরাটের মুন্দ্রায় আমাদের বন্দরটি ছিল পশ্চিমে আমাদের প্রথম ‘কর্মভূমি’। গত বৃহস্পতিবার সকালে কালীঘাটে প্রার্থনা করার সময় আমি মায়ের আশীর্বাদ চেয়েছি, যাতে পশ্চিমবঙ্গ আমাদের দ্বিতীয় ‘কর্মভূমি’ হয়ে ওঠে- এবার পূর্বাঞ্চলে। কারণ, আমার কাছে পশ্চিমবঙ্গ কেবল বিনিয়োগের একটি গন্তব্য নয়। এটি এমন এক স্থান যেখানে আমি কিছু গড়ে তুলতে চাই, সেবা করতে চাই এবং সর্বোপরি, নিজেকে এখানকারই একজন হিসেবে অনুভব করতে চাই।’
আদানি আরোগ্য মন্দির: নিউ টাউনে ৪,০০০ কোটি রুপিরও বেশি বিনিয়োগে আদানিগোষ্ঠী একটি ২,০০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল গড়ে তুলছে। এই হাসপাতালের নাম দেয়া হয়েছে, ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’। এটিকে একটি ‘বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা গবেষণা ও চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যেখানে অর্ধেক শয্যা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ঘিরে ১০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর শিল্পপতি গৌতম আদানি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের কথা মনে করে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে দুই হাজার শয্যার সর্বাধুনিক চিকিৎসা সংবলিত আধুনিক হাসপাতাল; যা গড়া হবে ভারতের এইমস হাসপাতালের ধাঁচে। এখানে থাকবে মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, চিকিৎসা গবেষণাগার, নার্সিং স্কুল, আউটডোর চিকিৎসাসহ হাসপাতালের নানা সুযোগ-সুবিধা। গৌতম আদানি আরও বলেন, এ হাসপাতাল নির্মাণের প্রাথমিক খরচ হবে চার হাজার কোটি রুপি। ৫১ একর জমি জুড়ে হবে হাসপাতাল কমপ্লেক্স।
