Warning: Trying to access array offset on false in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/app/core/FileCache.php on line 28

Warning: Trying to access array offset on false in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/app/core/FileCache.php on line 28
পাখিদের কলতানই এখন শাল্লার গলার কাঁটা - MZamin
পাখিদের কলতানই এখন শাল্লার গলার কাঁটা

পাখিদের কলতানই এখন শাল্লার গলার কাঁটা

ফন্ট সাইজ:

পাখিদের কলতান কার না ভালো লাগে। গাছের ডালে ডালে পাখির কিচিরমিচির শব্দ প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মনকে আনন্দিত করে। তবে সেই ভালো লাগাই এখন সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা সদরের মানুষের কাছে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানকৌড়ির বিষ্ঠা ও দুর্গন্ধে উপজেলা সদরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। হাওরবেষ্টিত এ উপজেলার অধিকাংশ গ্রামেই পর্যাপ্ত গাছপালা নেই।

ফলে উপজেলা সদরের সামান্য কিছু গাছই বিভিন্ন প্রজাতির পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সদরের বিভিন্ন গাছে বিপুলসংখ্যক পানকৌড়ি বাসা বেঁধে বসবাস করছে। শুরুতে এসব পাখির কিচিরমিচির শব্দ ও গাছে গাছে তাদের বিচরণ স্থানীয়দের কাছে আনন্দের বিষয় ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিপুলসংখ্যক পানকৌড়ির বিষ্ঠায় সড়ক, গাছপালা ও আশপাশের এলাকা নোংরা হয়ে পড়েছে। তীব্র দুর্গন্ধে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা সদরে প্রবেশের প্রধান দুটি সড়কের মধ্যে একটি পুরাতন উপজেলা পরিষদ হয়ে শাল্লা থানার দিকে গেছে। অন্যটি বাজার থেকে কাঁচাবাজার হয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় সংযোগ স্থাপন করেছে। থানার সামনের সড়কটি পানকৌড়ির বিষ্ঠা ও দুর্গন্ধে অনেকটা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বিকল্প হিসেবে কাঁচাবাজার সড়কটিতে মানুষের চাপ বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাখিগুলোকে তাড়িয়ে দেয়া বা গাছ কেটে ফেলার মতো কোনো পদক্ষেপ চান না তারা। বরং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে কীভাবে পাখিগুলোর অবস্থান ও মানুষের চলাচল— দুই দিকের মধ্যে সমন্বয় করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। শাল্লা থানার একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, থানার ভেতর থেকে বের হওয়ার সময় অনেক সময় তাদের পোশাকেও পানকৌড়ির বিষ্ঠা পড়ে যায়। দুর্গন্ধের কারণে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে বলেও জানান তারা। তাদের ভাষ্য, নিয়মিত বিষ্ঠার দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশের কারণে শারীরিক অস্বস্তিসহ নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে পানকৌড়ির বাসাগুলোতে বাচ্চা রয়েছে।

এ অবস্থায় হঠাৎ করে পাখিগুলোকে সরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাসের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এই পাখি নিয়ে বিশাল সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে দেখি কী করা যায়। আর কিছুদিন পরে পাখিগুলো চলে যাবে। তখন গাছের ডালগুলো একটু ছেঁটে দিলে পরে এই সমস্যা হবে না।