ধ্বংসের পথে নবীনগর জমিদারবাড়ীর ঐতিহাসিক মঠ

ধ্বংসের পথে নবীনগর জমিদারবাড়ীর ঐতিহাসিক মঠ

ফন্ট সাইজ:

তিতাস নদীর পাড়ে অবস্থিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর শহরকে দূর থেকেই চেনা যায় নবীনগর জমিদারবাড়ীর প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতা ও প্রায় ৯০ ফুট বেড়বিশিষ্ট ঐতিহাসিক মঠটি দেখে। একসময়কার জমিদারি ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের স্মারক এই মঠটি এখন যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, নবীনগরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা শতবর্ষী এ স্থাপনাটি রক্ষায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংরক্ষণ করা না হলে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শনটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।

জানা যায়, প্রায় দুইশ’ বছর আগে নবীনগরের জমিদার সীতারাম পোদ্দারের মৃত্যুর পর তার স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার উদ্দেশ্যে তার স্বর্গত পুত্র গোপীনাথ চৌধুরীর স্ত্রী রাধারানী রায় চৌধুরানী মঠটি প্রতিষ্ঠা করেন। নবীনগর মৌজায় সাবেক সেটেলমেন্টের ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ২৬৬১ দাগের ০.০২ একর ভূমির ওপর নির্মিত হয় স্থাপনাটি। মঠটি নির্মাণের সময় বর্তমানের মতো সিমেন্টের ব্যবহার প্রচলিত ছিল না। ইট ও বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি চুনের মিশ্রণ ব্যবহার করে তিতাস নদীর তীরে এটি নির্মাণ করা হয়। মঠটির নির্মাণকাজ শেষ করতে প্রায় তিন বছর সময় লেগেছিল বলে স্থানীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়। গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ১৯৫০ সালের একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মঠটির চূড়ার কিছু অংশ ভেঙে পড়ে। তবে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কামানের গোলার আঘাতেও মঠটির চূড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যদিও এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৪৭ সালের আগে মঠটির ভেতরে কামিনী বাবু নামে একজন দর্জি কাজ করতেন। দেশভাগের পর জমিদার পরিবারের বংশধররা ভারতে চলে গেলে মঠটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। পরবর্তীতে রাধারানী রায় চৌধুরানীর পৌত্র গোপাল চন্দ্র রায় চৌধুরী মঠের স্থানটি সালাম মেম্বারের কাছে বিক্রি করে দেন বলে জানা যায়। ২০১১ সালের আগস্টে নবীনগর পৌরসভার তত্ত্বাবধানে মঠটির আংশিক সংস্কারকাজ করা হয়। তবে আংশিক সংস্কারের পর দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ পরিকল্পনা না থাকায় বর্তমানে স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেলে শুধু একটি স্থাপত্যকর্মই হারিয়ে যায় না, সঙ্গে হারিয়ে যায় একটি জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নবীনগর জমিদারবাড়ীর এই ঐতিহাসিক মঠটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।