ঝিনাইদহ পৌরসভায় কাজ শেষের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিচ উঠে যাওয়া সেই আলোচিত সড়কটি সরজমিন পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। শুক্রবার সকালে পৌর এলাকার সাধুপতিরাম স্কুল থেকে ভড়ুয়াপাড়া মোড় পর্যন্ত ১ কিলোমিটারের সড়কটি ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় কাজের চরম অনিয়মে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লাইসেন্স বাতিলের স্পষ্ট নির্দেশ দেন তিনি। পরিদর্শনকালে তিনি উপস্থিত পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে বলেন, উন্নয়ন কাজের নামে জনগণের টাকার এমন হরিলুট কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। অনিয়মে জড়িত ঠিকাদারের লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং সড়কটির কাজ নতুন করে মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক ও ঝিনাইদহ পৌরসভার যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৪৩ লাখ (প্রাক্কলিত ৬০ লাখ) টাকা ব্যয়ে এক কিলোমিটারের এই সড়কটির নির্মাণকাজ করছেন অনিক এন্টারপ্রাইজের মালিক ঝিনাইদহ শহরের কেপি বসু সড়কের অনুকূল চন্দ্র বিশ্বাস নামে এক ঠিকাদার। গত ১লা সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২২শে সেপ্টেম্বর কাজটি শেষ হয়।
কিন্তু হস্তান্তরের মাত্র একদিনের মাথায় পায়ের ঘষাতেই সড়কটির উপরিভাগের পিচ ও খোয়া উঠে যেতে থাকে। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর সড়কটির পুনর্নির্মাণ করা হলেও নিম্নমানের ইট, বালু, বিটুমিন ব্যবহার এবং নির্ধারিত ২৫ সেন্টিমিটার থিকনেসের জায়গায় মাত্র ১৭ সেন্টিমিটার দিয়ে কাজ শেষ করার অভিযোগ তোলেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। আর ঠিকাদারের সঙ্গে এই নিম্নমানের কাজে সহায়তা করেন বিশ্বব্যাংকের পিডি ও ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশলী রাশেদ আলী খান। সাইট ভিজিটের খবর নিশ্চিত করে শুক্রবার বিকালে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশলী রাশেদ আলী জানান, রাস্তাটি পরিদর্শন করে ঠিকাদার ও কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন রাশেদ খান। দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
