১৬ বছর ধরে অচল চেঙ্গুটিয়া রেলস্টেশন

১৬ বছর ধরে অচল চেঙ্গুটিয়া রেলস্টেশন

ফন্ট সাইজ:

যশোরের অভয়নগরে চেঙ্গুটিয়া রেলস্টেশন দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে জনবল সংকট ও অব্যবস্থাপনায় কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। স্টেশন ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকলেও ২০১০ সাল থেকে নেই নিয়মিত স্টেশন মাস্টার, গার্ড কিংবা কর্মচারী। বন্ধ রয়েছে টিকিট কাউন্টারও। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ স্টেশনটি থাকলেও কাঙ্ক্ষিত যাত্রীসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে চেঙ্গুটিয়া স্টেশনে শুধু খুলনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী মহানন্দা এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি রয়েছে। তবে ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে খুলনা ফেরার পথে এখানে থামে না। এতে খুলনাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। টিকিট কাউন্টার বন্ধ থাকায় মহানন্দা এক্সপ্রেসে যাতায়াতকারী যাত্রীরা স্টেশন থেকে টিকিট কিনতে পারেন না। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা চালু করা হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি রেলের রাজস্বও বাড়বে।

এদিকে অধিকাংশ লোকাল ও কমিউটার ট্রেন চেঙ্গুটিয়ায় যাত্রাবিরতি না করায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে এলাকার মানুষ নিয়মিত যশোর ও খুলনায় যাতায়াত করেন। কিন্তু ট্রেনের সুবিধা নিতে অনেককেই প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরের নওয়াপাড়া রেলস্টেশনসহ অন্য স্টেশনে যেতে হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, চেঙ্গুটিয়া স্টেশনে নিয়মিত লোকাল ও কমিউটার ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্কুলশিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, একসময় চেঙ্গুটিয়া রেলস্টেশন এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো। এখন জনবল না থাকায় স্টেশনটি অবহেলিত। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্টেশন চত্বর ও আশপাশে আগাছা জন্মেছে। অবকাঠামো থাকলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবা না থাকায় মানুষ এর সুফল পাচ্ছেন না।

চেঙ্গুটিয়া বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ইদ্রিস আলী গাজী বলেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, টিকিট কাউন্টার চালু এবং গুরুত্বপূর্ণ লোকাল ও কমিউটার ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা হলে দীর্ঘদিনের অবহেলায় পড়ে থাকা চেঙ্গুটিয়া রেলস্টেশন আবারো সচল হবে। এতে মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ বিষয়ে যশোরের উথলী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইয়াছির আরাফাত বলেন, আমি উথলী রেলস্টেশনের পাশাপাশি চেঙ্গুটিয়া রেলস্টেশনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। চেঙ্গুটিয়া স্টেশনে নিয়মিত কোনো জনবল না থাকায় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হলে স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে এবং যাত্রীসেবার পরিধিও বাড়বে।