চিলমারী ডান তীর রক্ষা প্রকল্পে ফের ধস, চরম আতঙ্ক

চিলমারী ডান তীর রক্ষা প্রকল্পে ফের ধস, চরম আতঙ্ক

ফন্ট সাইজ:

থামছে না ধস, বাড়ছে আতঙ্ক, রক্ষা প্রকল্পসহ প্রায় দুই কিলোমিটার অবদা বাঁধ ভাঙনের মুখে। চলতি মৌসুমে কাঁচকোল বাজারের উত্তরে সড়কটারী এলাকায় কয়েকটি স্থানে ধসের পর এবার বাজারের দক্ষিণে উত্তর খামার এলাকায় নতুন করে দু’টি স্থানে প্রায় ৮০ মিটার ধসে যাওয়ায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকা জুড়ে। নতুন করে ধস দেখা দেয়ায় রক্ষা প্রকল্পসহ প্রায় দুই কিলোমিটার অবদা বাঁধ ভাঙনের মুখে সেইসঙ্গে শত শত গ্রামসহ উপজেলা সদরও রয়েছে হুমকির মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি স্থানীয়দের। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে জানালেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল বাজারের দক্ষিণে উত্তর খামার এলাকায় ফের নতুন করে দু’টি স্থানে প্রায় ৮০ মিটার এলাকা ধসে ব্লক ডেবে গেছে বৃহস্পতিবার রাতে। চলতি মৌসুমে গত কয়েকদিন আগে কাঁচকোল বাজারের উত্তরে সড়কটারী এলাকায় ডান তীর রক্ষা প্রকল্পে বেশ কয়েকটি স্থানে ধস দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় ভাঙন রোধে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। জিও ব্যাগ ফেলিয়ে তৎক্ষণিকভাবে ভাঙন রোধ করা হলেও কয়েকদিনের ব্যবধানে ফের নতুন করে ধস দেখা দিয়েছে কাঁচকোল উত্তর খামার এলাকায়। বৃষ্টির সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতে নতুন করে দু’টি স্থানে আবারো প্রায় ৮০ মিটার এলাকার ব্লক ধসে সৃষ্টি হওয়া ভাঙনের মুখে পড়েছে চিলমারী রক্ষা অবদা বাঁধ। সেইসঙ্গে একই এলাকার কেডিওয়ারী স্কুলের সামনেও রক্ষা প্রকল্পে ফাটল দেখা দেয়ায় আতঙ্কে পড়েছে স্থানীয়রা। কয়েকদিনের ব্যবধানে একের পর এক স্থানে ধস ও ফাটল দেখা দেয়ায় ভাঙনের মুখে পড়েছে অবদা বাঁধ। সেইসঙ্গে হুমকির মুখে রয়েছে শত শত গ্রামসহ উপজেলা সদর।

স্থানীয় মাহবুবুর রহমান বলেন, নতুন করে আবারো ধস দেখা দেয়ায় ভয় বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, এই বাঁধ ভেঙে গেলে হাজারো হেক্টর ফসলি জমি নষ্ট হবে সেইসঙ্গে বেশ কিছু সরকারি স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। বাঁধ ভাঙনে ভাঙবে বাড়িঘর, তখন কই যামো হামরা তো গরিব মানুষ, আমাদের রক্ষা করুন— কথাগুলো বললেন এলাকার মানিক মিয়া। উপজেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক বলেন, ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইতিমধ্যে কুড়িগ্রাম-৩ ও ৪ সংসদ সদস্য মহিলা আসন সুরাইয়া জেরিন প্রতিমন্ত্রী বরাবর আবেদন দিয়েছেন। আশা করছি, দ্রুত ভাঙন রোধে কাজ শুরু হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, আমরা প্রকল্প প্রস্তাবনা দাখিল করেছি, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আশা করছি এই এলাকার সমস্যা সমাধান হবে। ইতিমধ্যে ধস ও ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রধান প্রকৌশলী রংপুর ড. সরফরাজ বান্দা।