কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে জলমহালের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রামের আখড়াবাজার এলাকায় উপজেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ গ্রুপ এবং উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানিয়েছে, উপজেলার বিলমাকশা জলমহালের ভোগদখল নিয়ে বছর খানেক ধরে উপজেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীনের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শুক্রবার দুপুরে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত থেমে থেমে এই সংঘর্ষ চলে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদের অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) আমিনুল ইসলাম বলেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত ২২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং একজনকে গুরুতর অবস্থায় কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন বলেন, বিলমাকশা জলমহালটি গত বছর তিনি ইজারা নিয়েছিলেন। এবারো সর্বোচ্চ দরদাতা হলেও উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি বিভিন্নভাবে বাধা দিচ্ছেন। আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হয়ে জলমহালটি লুটপাটের জন্য স্থানীয় সাধারণ মানুষকে উস্কে দিচ্ছেন। এর জের ধরে আমার অনুসারীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ। তিনি বলেছেন, শাহীনের সমর্থকরাই প্রথমে আমার লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
