শ্রীপুরে স্বামী খুন, পুলিশ হেফাজতে স্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

মাগুরার শ্রীপুরে নিজ ঘরেই এক বালু ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার ভোরে উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী ফারজানা আক্তার (২৭) কে আটক করেছে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. রাব্বি মণ্ডল (৩২)। তিনি পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের নজরুল মণ্ডলের ছেলে। এই দম্পতির সাত বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং অভিযুক্ত ফারজানা বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রাব্বি ও ফারজানার মধ্যে পারিবারিক বিষয়ে বাক?বিতণ্ডা চলছিল। সেই বিরোধের জেরে শুক্রবার ভোরে ঘরের মধ্যে রাব্বি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন তার গলায় ধারালো দা দিয়ে আঘাত করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সকাল ৮টার দিকে ফারজানার বাবা ফয়জার ফোন করে জানান যে দম্পতির মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছে। সংবাদ পেয়ে রাব্বির বাবা দ্রুত ঘরে গিয়ে বিছানার উপর ছেলের রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখতে পান।

হত্যাকাণ্ডের পর ফারজানা আক্তার আমতৈল গ্রামে তার বাবার বাড়িতে পালিয়ে যায়। এ ঘটনা জানার পর ফারজানার বাবা পুলিশকে জানালে শ্রীপুর থানা পুলিশ সেখান থেকে তাকে হেফাজতে নেয়। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি দা আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের বাবা নজরুল মণ্ডল বলেন, ‘দিন দশেক আগে শ্বশুরবাড়ি আমতৈল গেলে সেখানকার লোকজন রাব্বিকে মারধর ও অপমান করেছিল। আজ সকালে গিয়ে দেখি আমার নিষ্পাপ ছেলেটা খাটের উপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা এই নির্মম হত্যার কঠোর শাস্তি চাই।’ খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ দ্রুত গিয়ে লাশের সুরতহাল তৈরি করে। পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া জানান, দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মূল অভিযুক্ত স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উন্মোচনে আইনগত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।