বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে নারী নিহত, নিখোঁজ ৪

বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে নারী নিহত, নিখোঁজ ৪

ফন্ট সাইজ:

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে লাহেসা বেগম (৫৬) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে মাঝিসহ নৌকায় থাকা ৮ জন তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীমদ্দি গ্রামের গাঙ্কুল বাড়ির পাশের তিতাস নদীর পাড় থেকে নৌকাটি সোনারগাঁয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। যাত্রীরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। নৌকায় মাঝিসহ ১৩ জন ছিলেন। সঙ্গে ছিল দু’টি গরু ও একটি ছাগল। দুপুর ৩টার দিকে নৌকাটি সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার এলাকার কাছাকাছি মেঘনা নদীতে পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়।

নদী উত্তাল হয়ে উঠলে তীব্র বাতাস ও ঢেউয়ের ধাক্কায় তীরের কাছাকাছি নৌকাটি উল্টে যায়। এ সময় যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান। স্থানীয়দের সহায়তায় ৮ জন তীরে উঠতে সক্ষম হন। তাদের মধ্যে লাহেসা বেগমের ভাইয়ের স্ত্রী শিরিনা আক্তার (৪০) ও তার ৮ বছরের মেয়ে লামিয়াও রয়েছেন। পরে স্থানীয়রা নদী থেকে লাহেসা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত লাহেসা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিখোঁজ হেলাল মিয়ার ফুপু। দুর্ঘটনার সময় হেলাল মিয়ার পরিবারের সাতজন সদস্য নৌকায় ছিলেন। নিখোঁজ চারজন হলেন- হেলাল মিয়া (৪৫), তার ছেলে সজীব (২২), মেয়ে সামিয়া (১৯) ও শিশু শামীম (৬)।

তাদের সবার বাড়ি হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্দি গ্রামে। নৌকার মাঝি আহাম্মদ নবী বলেন, তীরে পৌঁছানোর আর এক থেকে দেড় মিনিট বাকি ছিল। তখন হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও উত্তাল ঢেউ শুরু হয়। নৌকার তলা ফাটেনি। ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌকাটি উল্টে যায়। ৮ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও হেলাল মিয়ার পরিবারের চারজন নিখোঁজ হন। সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল বারিক পিপিএম জানান, বৃহস্পতিবার সারা দিন শেষে রাত ৩টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলে। শুক্রবার সকাল থেকে ডুবুরি দল, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আবারো উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে দুপুর পর্যন্ত নিখোঁজ চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া বলেন, ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদী সীমানায় ঘটেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হোমনার বাসিন্দা। তাদের উদ্ধারে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।