শিল্প বিপ্লবের শুরুর দিকে এবং তার পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি বা সাইরেন আবিষ্কারের আগে, কারখানায় লোহার ঘণ্টার ব্যবহার ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য। সেই আমলে বিশাল কারখানার কর্মব্যস্ত পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ও হাজার হাজার শ্রমিকের সময় ব্যবস্থাপনার একমাত্র প্রধান মাধ্যম ছিল এই লোহার ঘণ্টা। কারখানায় কাজের দিন শুরু হওয়ার সংকেত দিতে এবং নির্দিষ্ট শিফ্ট শেষে ছুটি ঘোষণার জন্য লোহা বা ব্রোঞ্জের তৈরি বড় ঘণ্টা বাজানো হতো। ১৮৭০ সালে দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা সৈয়দপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়। কারখানায় প্রধান গেটের পূর্বদিকে এই ঘণ্টাটির ঐতিহাসিক ব্যবহার ও গুরুত্ব রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে অর্থাৎ ১৫০ বছরের বেশি লোহার তৈরি এই ঘণ্টাটি স্থাপন করা হয়। সেই যুগে আজকের মতো বিদ্যুৎ, ডিজিটাল ঘড়ি, সাইরেন বা লাউড স্পিকার ছিল না।
তাই কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিকদের সময় জানান দিত এই ঘণ্টা। কারখানায় প্রবেশ এবং ছুটি এই ঘন্টা বাজার উপর নির্ভর করতো। প্রতি ঘণ্টায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি লাহার দন্ড দিয়ে সজোরে আঘাত করে জানান দিত এখন ক’টা বাজে। এই ঘণ্টার শব্দ প্রায় এক দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত শোনা যেত। শ্রমিকদের দুপুরের খাবার বা নির্দিষ্ট বিরতির (যেমন ৪৫ মিনিট কাজ ও ১৫ মিনিট বিশ্রাম) সময় জানাতে ঘণ্টা ব্যবহার করা হতো। ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই সব যন্ত্রপাতি বন্ধ করে শ্রমিকেরা বিরতিতে যেতেন। কারখানায় কাজের দিন শুরু হওয়ার সংকেত দিতে এবং নির্দিষ্ট শিফ্ট শেষে ছুটি ঘোষণার জন্য লোহা বা ব্রোঞ্জের তৈরি বড় ঘণ্টা বাজানো হতো।
ব্রিটিশ আমলের সেই ঘণ্টা রেলওয়ের গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হিসাবে স্বযত্নে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় সংরক্ষিত আছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সূফী নূর মোহাম্মদ জানান, লোহার ঘণ্টা মাঝেমধ্যে ব্যবহার করা হয় বিশেষ কাজে। মূলত দর্শনার্থীদের দেখার জন্য এটি রাখা হয়েছে।
