জিয়াউল আহসানের বিষয়ে তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় তারেক সাঈদের ওপর কারাগারে হামলা: পরিবারের দাবি

ফন্ট সাইজ:

কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিষয়ে স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের আগ্রহ প্রকাশ করায় নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক সাঈদের ওপর কারাগারে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে কারা হেফাজতে থাকা অবস্থায় কারারক্ষীদের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে এ নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
সোমবার রাতে অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক ফেসবুক পোস্টের বরাত দিয়ে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে পোস্টে উল্লেখ করা হয়, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের আগ্রহ দেখিয়েছিলেন তারেক সাঈদ। তাঁদের অভিযোগ, সেই তথ্য যাতে প্রকাশ্যে না আসে, সেজন্য কেরানীগঞ্জে থাকা জিয়াউল আহসানের নির্দেশেই মুন্সিগঞ্জ কারাগারে তারেক সাঈদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, আলোচিত সাত খুনের ঘটনার পর থেকেই তারেক সাঈদ একাধিকবার দাবি করে আসছিলেন যে, এ ঘটনায় জিয়াউল আহসান সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং তিনিই চক্রান্ত করে তাঁকে এ মামলায় ফাঁসিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে আরও জানানো হয়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার জান্নাতুল ফরহাদের নির্দেশে অন্তত পাঁচজন কারারক্ষী কারাগারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর অন্ধকারে লাঠি দিয়ে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তারেক সাঈদকে রক্তাক্ত করা হয়। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়।
যদিও কারা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, কারাগারের ভেতরে অন্য এক বন্দিকে জেল সুপারের গায়ে নোংরা পানি ফেলতে উসকানি দেওয়ার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে পরিবার বিষয়টিকে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখছে।
হামলায় গুরুতর আহত তারেক সাঈদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে মুন্সিগঞ্জের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তাঁর মা দিলুয়ারা বেগম। ঘটনাটি কারা কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।
কারাগারের ভেতরে সংঘটিত এ ধরনের সহিংস ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে।