নিজ জায়গায় হোটেল, রেস্তোরাঁ তবুও অপপ্রচার

ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নানের অভিযোগ

নিজ জায়গায় হোটেল, রেস্তোরাঁ তবুও অপপ্রচার

ফন্ট সাইজ:

নিজের বৈধ মালিকানাধীন জমিতে ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান। শনিবার সকালে মইজ্জ্যারটেক এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, জমির যাবতীয় বৈধ কাগজপত্র ও অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও একটি অসাধু গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিল এবং তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত করতে এই অপচেষ্টায় লিপ্ত।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মান্নান জানান, ভবন নির্মাণের পর থেকেই মহলটি জমি এবং নির্মাণকাজের বৈধতা নিয়ে কোনও তথ্য যাচাই না করেই অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এমনকি সিডিএ’র জায়গা দখলের ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সাংবাদিকদেরও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে তিনি বলেন, তারা দাবি করছে আমি সিডিএ’র জায়গা দখল করে ৮ তলা ভবন বানিয়ে ‘হোটেল রাফা’ ও ‘আল মদিনা রেস্তোরাঁ’ পরিচালনা করছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, হোটেল ও রেস্তোরাঁটি সম্পূর্ণ আমাদের পারিবারিক নিজস্ব জমিতে প্রতিষ্ঠিত এবং ভবনটিসহ ৬তলা বিশিষ্ট, যা কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক অনুমোদন পায়। কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটা মৌজার ১৪৭৫ ও ১৪৭৫/বিএস দাগের ৭ শতক জমি ক্রয় করে আমরা এই ব্যবসা পরিচালনা করছি।

সিডিএ’র লিজ নেয়া জমির বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তার নিজস্ব মালিকানাধীন জায়গার সামনের অংশে সিডিএ’র ৩.৭৭ কাঠা জমি ২০২৪ সালে তিনি নিয়মানুযায়ী লিজ পান। ২০২৫ সালের শেষভাগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ওই লিজকৃত জমি তাকে বুঝিয়ে দেয়, যার বিপরীতে প্রতি বছর তিনি সরকারকে প্রায় ২ লাখ টাকা রয়্যালটি এবং প্রযোজ্য ভ্যাট ও আয়কর প্রদান করে আসছেন।
পরবর্তীতে ওই লজকৃত খালি জায়গায় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অবৈধভাবে সিএনজি স্টেশনগড়ে তোলার চেষ্টা করলে, তিনি সিডিএ’র জমি রক্ষার্থে চলাচলের পথ রেখে সেখানে কয়েকটি অস্থায়ী সেমিপাকা দোকান নির্মাণ করেন। এরপর থেকেই মহলটি তার নিজস্ব মালিকানাধীন মূল ভবন ও রেস্তোরাঁকে জড়িয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো শুরু করে।

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই ব্যবসায়ী বলেন, সিডিএ’র মালিকানাধীন প্রায় ৩.৩ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় চার শতাধিক দোকান ও বহুতল ভবন রয়েছে। গত তিন দশক ধরে কোনো ধরনের সরকারি ফি না দিয়ে অনেকে কথিত জমিদার সেজে তা ভোগদখল করছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না থাকলেও, আমি নিয়ম মেনে বার্ষিক রয়্যালটি দিয়ে অস্থায়ী মাত্র ৪-৫টি দোকান করায় আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, আমার কাছে দলিল, খতিয়ান, নামজারি, দখলসংক্রান্ত নথি ও অনুমোদনের সব কাগজপত্র রয়েছে। প্রশাসন সরজমিনে এসে আমার সব কাগজপত্র এবং নির্মাণকাজ তদন্ত করুক। তদন্তে যদি আমার কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, তবে কর্তৃপক্ষের যেকোনো সিদ্ধান্ত আমি মাথা পেতে নেব। কিন্তু মিথ্যা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দারাও নথিপত্রের ভিত্তিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।