ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ছাড়ার পর আর ফেরেননি। কেউ আবার অনুমতি ছাড়াই দিনের পর দিন ছিলেন কর্মস্থলে অনুপস্থিত। বিভাগীয় তদন্তে কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ হয়েছে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ। এসব কারণে পুলিশের ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানও রয়েছেন।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের বরখাস্তের আদেশ জানানো হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস এবং সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল।
ঢাকা জেলার সাবেক এসপি মো. আসাদুজ্জামান ২০২৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় যোগ দেন। এরপর ১৭ থেকে ২১শে সেপ্টেম্বর ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ছাড়েন। কিন্তু ছুটি শেষ হওয়ার পর আর যোগ দেননি তিনি। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এতে পলায়নের অভিযোগ আনা হয়। পরে ২০২৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর থেকে তার বরখাস্ত কার্যকর করার আদেশ দেয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে ২০২৫ সালের ১২ই আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে ২০২৫ সালের ১২ই আগস্ট থেকে তার বরখাস্ত কার্যকর করা হয়।
পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের সাবেক এসপি মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ২০২৫ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে করা বিভাগীয় তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এরপর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ২০২৪ সালের ১২ই অক্টোবর চিকিৎসার জন্য ছুটি নিয়ে থাইল্যান্ড যান। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার কথা থাকলেও তিনি আর যোগ দেননি। ৪ঠা নভেম্বর থেকে তার অননুমোদিত অনুপস্থিতি ধরা হয়। এ ঘটনায় বিভাগীয় মামলা এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের ৪ঠা নভেম্বর থেকে তার বরখাস্ত কার্যকর করা হয়েছে।
ডিএমপির সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস ২০২৪ সালের ২রা নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ছুটি শেষ হওয়ার পরও দায়িত্বে না ফেরায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। পরে ২রা নভেম্বর ২০২৪ থেকে তার বরখাস্ত কার্যকর করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল ২০২৫ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য ও বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বরখাস্তের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
