স্বাস্থ্যগত কারণে সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে হাইকোর্টের জামিন, স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ

স্বাস্থ্যগত কারণে সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে হাইকোর্টের জামিন, স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ

ফন্ট সাইজ:

স্বাস্থ্যগত কারণ ও বয়স বিবেচনায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে নিয়মিত জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে তার এই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আগামী ২৬শে অক্টোবর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের এই স্থগিতাদেশ আবেদনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে আদালত উল্লেখ করেন, ৭৬ বছর বয়সী কাজী হাবিবুল আউয়াল বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তাঁর বয়স, শারীরিক অসুস্থতা ও মামলার সামগ্রিক পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় আদালত তাঁকে জামিনের উপযুক্ত মনে করেছেন। তবে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে এবং আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখার শর্তে তাঁর এই জামিন কার্যকর হবে। এর আগে গত ৯ই সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে মামলার বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাবিবুল আউয়ালকে জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন।

আদালতে শুনানির যুক্তিতর্ক: আদালতে হাবিবুল আউয়ালের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, এস এম শাহজাহান ও সারা হোসেনসহ অন্যরা। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুল করিম মণ্ডল।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, কাজী হাবিবুল আউয়াল প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অধিকাংশ ধারাই জামিনযোগ্য। এছাড়া পেনাল কোডের ১২৪(ক) ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা মোতাবেক সরকারের যে পূর্বানুমতি নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা এ মামলায় মানা হয়নি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের কড়া বিরোধিতা করে আদালতে জানায়, আসামির বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ফলে তিনি জামিন পেলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার কিংবা দেশত্যাগের ঝুঁকি তৈরি হবে। তবে উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ এবং মামলার তদন্ত শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি আমলে নিয়ে হাইকোর্ট শেষ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার প্রেক্ষাপট: নির্বাচনী প্রক্রিয়া কারচুপি ও ভোট চুরির মাধ্যমে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার অভিযোগে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান (পিপিএম) শেরেবাংলা নগর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিগত তিনটি নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়। এ মামলার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৫ জুন হাবিবুল আউয়াল গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে বিচারিক আদালতে দফায় দফায় তাঁর জামিন আবেদন খারিজ হলে তিনি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বেলায়েত হোসেনের পদত্যাগ: এদিকে পৃথক এক ঘটনায় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বেলায়েত হোসেন। ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পেশাগত ব্যস্ততার কারণেই তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “পেশাগত ব্যস্ততার কারণে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে অদ্য পদত্যাগ করলাম।”