শ্রীলঙ্কায় দৈবক্রমে উন্মোচিত হয়েছে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম গণকবর। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া খননকাজে এ পর্যন্ত শিশু ও নবজাতকসহ মোট ৫৭২ জনের মানবকঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় জাফনা উপদ্বীপের চেম্মানি এলাকায় একটি শ্মশান সম্প্রসারণের কাজের সময় এ কবরের হদিস মেলে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষের পরিণতি নিয়ে নতুন করে আশার আলো ও ক্ষোভ দুটোই দেখা দিয়েছে। এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।
উদ্ধারকৃত কঙ্কালগুলোর পাশাপাশি মৃতদের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য নানা জিনিসপত্র পাওয়া গেছে। যার মধ্যে রয়েছে শিশুদের দুধের বোতল, স্কুলের ব্যাগ ও চুড়ি। প্রত্নতাত্ত্বিকদের তথ্যমতে, কঙ্কালগুলো অত্যন্ত অগভীর গর্তে গাদাগাদি করে স্তূপাকারে রাখা হয়েছিল এবং অধিকাংশই ছিল পোশাকহীন। প্রচলিত ধর্মীয় নিয়মে স্বাভাবিক সৎকারের কোনো প্রমাণ সেখানে মেলেনি। শ্রীলঙ্কার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তাদের এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানায়, এসব সমাধি আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বিচারবহির্ভূত প্রাণনাশের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। ১৯৯০-এর দশকে তামিল বিদ্রোহীদের কাছ থেকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর চেম্মানি এলাকাকে একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত সেনা ছাউনিতে রূপান্তর করা হয়েছিল এবং সেনা ক্যাম্পের খুব কাছেই এই গণকবরটি তৈরি করা হয়।
প্রায় তিন দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধে দেশটিতে অন্তত এক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং তামিল সম্প্রদায়ের প্রায় ২৩ হাজার মানুষ চিরতরে নিখোঁজ হয়ে যান। অতীতে একাধিক গণকবরের সন্ধান মিললেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে কোনো ঘটনারই বিচার হয়নি। বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনূরা কুমারা দিশানায়েকের সরকার অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালিয়ে সত্য উদঘাটনের প্রতিশ্রুতি দিলেও যুদ্ধাপরাধ তদন্তে আন্তর্জাতিক কোনো পক্ষের অংশগ্রহণের ঘোর বিরোধিতা করছে। উদ্ধারকৃত কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষা এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজনহারা ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
