সাভারের আশুলিয়ায় জামগড়ার এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানার ভেতরে থাকা লরির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের নাম জয়নব বেগম বলে জানা গেছে। তিনি কারখানার পাশে একটি কাপড়ের দোকান করতেন। এছাড়া বাকি পাঁচজনের মৃতদেহ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন ডিপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর আব্দুস সালাম।
এছাড়াও আগুনে কারখানার কর্মচারী ও পথচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস পোশাক কারখানার লরিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন বলেন, সন্ধায় আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। সাভার ডি ইপিজেড ফায়ার সার্ভিস এর দুটি ইউনিট এবং জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিটের টানা দুই ঘন্টার চেষ্টায় রাত পৌনে নয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ডিপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর আব্দুস সালাম বলেন, কারখানার বাহিরে সিলিন্ডার ভর্তি লরিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় ওই লরিগুলোর পাশ থেকে পাঁচ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের লাশ লরির ভেতরে পাওয়া গেছে এবং বাকিদের লাশ লরির পাশে পড়েছিল। এছাড়া সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে গিয়ে পড়লে জয়নব বেগম নামে সেখানকার এক দোকানি মারা গিয়েছে।
এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদেরকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ বলা যাবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানার অ্যাডমিন-ম্যানেজার হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘কারখানার সীমানা ঘেরা প্রাচীরের পাশে থাকা লরির সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লাগে। তবে কারখানার ভেতর কোনও শ্রমিক আটকে নেই। এর আগেই সবাই বাইরে চলে এসেছেন। কিন্তু কাভার বেনের পাশে থাকা বেশ কয়েকজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রনি বলেন, ‘বিস্ফোরণের শব্দে ও আগুনে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমি নিজে দুজন দগ্ধ ও গুরুতর আহত এক শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ছাড়া কারখানার পাশে রাস্তায় থাকা রিকশাচালকসহ অন্তত পাঁচ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে বয়লার বা পাইপের লোহার খণ্ড উড়ে গিয়ে পাশের বাড়িঘর ও রাস্তায় পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমাদের হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ১৬ জন ব্যক্তি ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এবং তাদের পুরো শরীর দগ্ধ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আশুলিয়ায় লরির সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৬
স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে
অনলাইন
৫২ মিনিট আগে
২১ সেপ্টেম্বর (সোমবার), ২০২৬, ১২ঃ২১ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
