ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নির্ধারিত নতুন মূল্য কার্যকর না করে হার্টের রিং (করোনারি স্টেন্ট) বেশি দামে বিক্রি এবং রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর এনফোর্সমেন্ট ইউনিট।
গতকাল এ অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেন দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ। তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে রোগীদের জন্য ব্যবহৃত স্টেন্টের মূল্য, সরবরাহের প্রক্রিয়া, রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে করোনারি স্টেন্ট বিক্রি, রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে হয়রানির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সম্প্রতি হার্টের রিং পরানো হয়েছে এমন রোগীদের তথ্য ও রেকর্ডপত্র দৈবচয়ন ভিত্তিতে সংগ্রহ করে এনফোর্সমেন্ট টিম। এসব নথিতে স্টেন্টের মূল্য, রোগীর কাছ থেকে আদায় করা অর্থ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি থাকা হার্টের রিং পরানো রোগীদের কাছ থেকেও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা হয়রানি করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে দুদক টিম।
দুদকের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে পাওয়া তথ্য এবং সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হবে। এরপর এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হবে। হৃদরোগের চিকিৎসায় করোনারি স্টেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ। এর মূল্য নির্ধারণ ও রোগীর কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কিনা, তা যাচাই করছে দুদক। একইসঙ্গে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানের মাধ্যমে মূলত রোগীর চিকিৎসা ব্যয়, স্টেন্টের প্রকৃত মূল্য এবং হাসপাতাল পর্যায়ে আদায় করা অর্থের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কিনা, তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য ও নথিপত্র বিশ্লেষণের পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে একটি টিম হাসপাতালটিতে অভিযান পরিচালনা করে। দুদকে দেয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, হৃদরোগের চিকিৎসায় জরুরি ভিত্তিতে স্টেন্ট ব্যবহারের প্রয়োজন হলে রোগী ও স্বজনদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে স্টেন্ট বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের স্টেন্টের কোম্পানি, মূল্য ও বিকল্প সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না দিয়ে নির্দিষ্ট কোম্পানির স্টেন্ট কিনতে বলা হয়। চিকিৎসক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কমিশনভিত্তিক লেনদেনের কারণেও স্টেন্টের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, স্টেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মোটা অঙ্কের কমিশন দেয়ার ঘটনা রয়েছে। কখনো কখনো ওই কমিশনের একটি অংশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের কাছেও যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
