দেশে নির্মাণ, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিকস ও প্রকৌশল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে নাট, বোল্টু ও স্ক্রুসহ ফাসেনারের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আকিজ, আরএফএল, মেঘনা, ওয়ালটন, সুপার স্টার, বিএসআরএম সহ বড় শিল্প গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র-মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় উৎপাদনে বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানি করা পণ্য এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় শিল্পগোষ্ঠীর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানও দেশে ফাসেনার উৎপাদনে বিনিয়োগ করেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রকৃত এইচএস কোড পরিবর্তন, কম মূল্য দেখানো, মিথ্যা ঘোষণা এবং সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ফাসেনার বাজারে ঢুকছে।
এর ফলে সরকার কোটি কোটি টাকার শুল্ক-কর হারাচ্ছে। বৈধ আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছেন।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ইউনিস্টার টেক্সটাইলের চালানে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ এবং এমএ টেক্সটাইলের ক্ষেত্রে ৯১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। এইচএস কোড ৭৩১৮.১৯.০০-এর অধীনে ২৫% কাস্টমস ডিউটিসহ উচ্চ হারে কর আরোপিত। অথচ নবাবপুরের পাইকারি বাজারে চীনা পণ্য বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৭০-১৮০ টাকা কেজিতে, যেখানে বৈধ আমদানির দাম ৩০০ টাকারও বেশি। স্থানীয় উৎপাদকরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে, কারখানা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবে এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে।
নিম্নমানের অবৈধ পণ্য জননিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাদের দাবি, আমদানি পর্যায়ে এইচএস কোড, মূল্য ও পণ্যের সামঞ্জস্য কঠোরভাবে পরীক্ষা, সন্দেহজনক চালানে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। লক্ষ্য হওয়া উচিত- দেশীয় উৎপাদক ও বৈধ আমদানিকারকদের জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, এইচএস কোড ৭৩১৮.১৯.০০ এর বিপরীতে ফাসেনার অর্থাৎ নাট-বোল্টু-স্ক্রু আমদানি করতে হয়। এক্ষেত্রে ফাসেনার আমদানির উপর ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, ৩ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি, ২০ শতাংশ সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ এআইটি এবং ৭.৫ শতাংশ এটি আরোপ করা হয়েছে। আমদানিকৃত প্রতি কেজি স্ক্রুর ন্যূনতম ক্রয়মূল্য ২ থেকে ২.৫ ডলার।
দেশে ফাসেনার উৎপাদনের জন্য কারখানা স্থাপনে জমি, ভবন, আধুনিক যন্ত্রপাতি, ডাই-মোল্ড, কাঁচামাল, বিদ্যুৎ ও গ্যাস, দক্ষ জনবল, মান নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ও উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রয়োজন।
দেশীয় কয়েকটি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এসব খাতে বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অসংখ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান নাট, বোল্টু, স্ক্রু ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল যন্ত্রাংশ তৈরি করছে। কিন্তু উৎপাদকদের অভিযোগ, কর ফাঁকি দিয়ে আমদানি করা পণ্য বাজারে অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি হওয়ায় দেশীয় কারখানার উৎপাদিত পণ্য ন্যায্য প্রতিযোগিতার সুযোগ পাচ্ছে না। তাদের আশঙ্কা- এ অবস্থা চলতে থাকলে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে। এতে শুধু ফাসেনার শিল্প নয়, দেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশও বাধাগ্রস্ত হবে।
