সরকারে গেলে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করবো

সরকারে গেলে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করবো

ফন্ট সাইজ:

দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে জনগণের রায় চেয়েছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচন শুধু ভোটের নির্বাচন হবে না, দেশ গঠন, মানুষের ভাগ্য  পরিবর্তন এবং দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রকৃত বন্ধু এবং জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করার জন্য আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন নিয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাদের লোকজন মানুষের কাছে গিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। এসব গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার জন্য আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারে গেলে শীতলক্ষ্যার পাড় দিয়ে নতুন ইপিজেড তৈরির পাশাপাশি আগামী ৫ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এসব পরিকল্পনা জনগণের কাছে সফলভাবে পৌঁছে দিতে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে বলেও জানান তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের বিপক্ষে আবারো ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই ষড়যন্ত্র আমাদের রুখতে হবে। গতকাল দিনব্যাপী রাজধানীতে ৮টি নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বেলা সোয়া ১২টায় বনানী কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ খেলার মাঠে নিজের নির্বাচনী এলাকায় জনসভায় বক্তব্য দিয়ে প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান। পরে ঢাকা-১০, ঢাকা-৮, ঢাকা-৯, ঢাকা-৫, ঢাকা-৪, ঢাকা-৬ এবং ঢাকা-৭ আসনের নির্বাচনী এলাকায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। প্রতিটি জনসভায় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। একইসঙ্গে উৎসুক সাধারণ মানুষদেরও জনসভায় ভিড় করতে দেখা গেছে। বক্তব্য দেয়ার সময় ৭টি আসনের প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ তুলে দেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান। তাদের নির্বাচিত করার জন্য এলাকাবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি’র চেয়ারম্যান।
ঢাকা-১৭ আসনের নিজ নির্বাচনী এলাকা বনানী কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ খেলার মাঠে তারেক রহমান বলেন, আর দু’দিন পরে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের বহু প্রত্যাশিত সেই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের বহু মানুষ গত ১৬ বছরে হত্যার শিকার হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখেছি, কতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আসুন আমাদের বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আপনাদের সামনে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যে কর্মসূচি দিয়েছে তা বাস্তবায়নে বিএনপিকে আপনারা সুযোগ দিন। বিএনপি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আগামীদিনে দেশ গঠন করবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী করবে, কী পরিকল্পনা তা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ করে বিএনপি’র মতো একটি রাজনৈতিক দলের কাছে সারা বাংলাদেশের মানুষ শুধু ঢাকা শহরে নয় সারা বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা। আমরাও বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা চেষ্টা করেছি, আমরা সেভাবে দলের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ করে, সেইভাবে কর্মসূচি তৈরি করেছি, যাতে আগামী ১২ তারিখে বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে এবং আমাদের সরকার গঠন করলে আমরা যাতে সমাজের দেশের প্রত্যেকটি মানুষকে বিভিন্ন বিষয় যাতে এড্রেস করতে পারবো।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশ, এই দেশের যারা সন্তান আছে, আমাদের যুবক আছে, তরুণ আছে- তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এই দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের জন্য আমাদের সুন্দরভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা করে তুলতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় যানজট আছে, রাস্তা-ঘাট সংস্কার করতে হবে। আমরা শুধু গত ১৫ বছরে দেখেছি মেগা প্রজেক্ট হয়েছে, মেগা মেগা দুর্নীতি হয়েছে- এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। সেজন্য আমরা জনগণের সমর্থন চাই।


একটি দল গ্রামে গ্রামে গিয়ে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে
বনানীর পথসভা থেকে ঢাকা-১০ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবির নির্বাচনী এলাকায় কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে জনসভায় অংশ নিয়ে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন নিয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাদের লোকজন মানুষের কাছে গিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মা-বোনদের বিভিন্ন অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো আসলে বায়বীয় প্রতিশ্রুতি। আমরা জনগণকে এমন প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, যেগুলো মানুষের দ্বারা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আমরা ভোটারদের এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না, যা মানুষের সাধ্যের বাইরে। যা মানুষের আওতার ভেতর নয়। তিনি বলেন, একটি দলের নেতাকর্মীরা নকল ব্যালটের সিলসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছে। কাজেই জনগণকে এসব নকল সিল বানানো লোকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। একটি দল গ্রামে গ্রামে গিয়ে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তাদের বিকাশ নম্বর, এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করছে। এসব গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। তা না হলে শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি, তা আবার হারিয়ে যাবে। দেশ আবার ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আটকে যাবে। কাজেই আমরা যদি সতর্ক থাকি তাহলে বাংলাদেশকে কেউ আর আটকে রাখতে পারবে না। আমরা যদি সতর্ক থাকি, বাংলাদেশের গতি কেউ রোধ করতে পারবে না। তিনি বলেন, ধানমণ্ডির দিকে আমার বিশেষ নজর থাকবে। রবিউল আলম রবির সঙ্গে আমিও ধানমণ্ডির উন্নয়নে কাজ করবো। কারণ ঢাকা-১০ আসনের সঙ্গে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। ধানমণ্ডি কিন্তু আমার আত্মীয়স্বজনদের এলাকা। এখানে আমিও কাজ করবো। রবির দেয়া প্রতিশ্রুতি আমিও বাস্তবায়নে সহায়তা করবো।


এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের করবে বলে প্রতিশ্রুতি

ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের নির্বাচনী এলাকা পীরজঙ্গি মাজার সড়কে জনসভায় তারেক রহমান বলেন, এই এলাকার তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে, এই সমস্যা শুধু ঢাকা নয়, সমগ্র বাংলাদেশে এই সমস্যা। এজন্য আপনাদের প্রিয় দল বিএনপি, এই ব্যাপারে কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমরা বাংলাদেশে আগামী ৫ বছরে ইনশাআল্লাহ্‌ এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবো। আমরা দেশে বিনিয়োগকারীদেরকে উৎসাহিত করবে, বিদেশ থেকে বিনিয়োগকারীদেরকে আমরা আমন্ত্রণ জানাবো দেশে মিল কারখানা তৈরির মাধ্যমে যেমন আমরা একদিকে বেকার সমস্যার সমাধান করবো। বিএনপি নির্বাচিত হলে ঢাকা-৮ আসনে খেলা মাঠ নির্মাণ, কবরস্থানের জন্য জায়গা প্রদান, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।


১২ তারিখ দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন
ঢাকা-৯ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবের নির্বাচনী এলাকা বাসাবো তরুণ সংঘ মাঠে বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, ১২ তারিখে দেশের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন, যেখানে মানুষ তার ইচ্ছামতো, তার পছন্দ মতো মানুষকে ভোট দিতে চায়- সেই পরিস্থিতি আজকে তৈরি হয়েছে। এটা শুধু ভোট দেয়ার ভেতরে সীমাবদ্ধের মধ্যে রাখলে চলবে না। দেশের মানুষ ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি এবং প্রকৃত বন্ধুকে নির্বাচিত করবে। এই নির্বাচনের আরেকটি লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্যে, সেটা হচ্ছে দেশকে আমাদের পুনর্গঠন করতে হবে। বাংলাদেশকে নতুন করে তৈরি করতে হবে। এ সময় ধানের শীষ সরকার গঠন ঢাকা-৯ এলাকায় খেলার মাঠ তৈরি, হাসপাতাল স্থাপন এবং রাস্তাঘাট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। একইসঙ্গে এই এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা দূরীকরণের কথা জানান তিনি। ঢাকা-৯ আসনে বাঁশের সেতুগুলো পাকা করার ব্যবস্থাও প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান।


দুর্নীতির লাগাম আমরা টেনে ধরবো

ঢাকা-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নবী উল্লাহ নবীর নির্বাচনী এলাকা যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে তারেক রহমান বলেন, পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কয়েক লাখ মানুষ বেকার হয়ে গেছে। এসব জায়গাগুলোতে আমরা নতুন ইপিজেড কারখানা তৈরি করবো। শীতলক্ষ্যার পাড় দিয়ে নতুন ইপিজেড হবে। যাতে করে বেকার যারা আছে, এই এলাকায় মানুষ যারা আছে- তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। তিনি বলেন, দুর্নীতির লাগাম যখন আমরা টেনে ধরতে পারবো, আমরা দেখেছি- বিগত ১৬ বছর কীভাবে দুর্নীতি করে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ দুর্নীতির লাগাম যদি আমরা টেনে ধরতে পারি তাহলে জনগণের কাছে আমাদের পরিকল্পনা সফলভাবে পৌঁছে দিতে পারবো। এটাও বিএনপি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে। আর এই এলাকায় মেডিকেল হসপিটাল এবং এবং মাতৃসদন প্রয়োজন। এই জরুরি কাজগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবো।


গণতন্ত্রের বিপক্ষে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে

ঢাকা-৪ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিনের নির্বাচনী এলাকা জুরাইন দয়াগঞ্জ রোডে জনসভায় তারেক রহমান বলেন, গত একযুগের বেশি সময় ধরে আপনাদের শুধু ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয় নাই, আপনাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও কেড়ে নেয়া হয়েছিল। আজ একইভাবে গণতন্ত্রের বিপক্ষে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই ষড়যন্ত্র আমাদেরকে রুখতে হবে। আমরা যদি আবার এই ষড়যন্ত্রের মধ্যে আটকে যাই তাহলে আবার দেশ পিছিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, ধানের শীষ সরকার গঠন করলে এই এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানের ধারা অব্যাহত রাখবো। যে শিল্প এলাকায় যেসকল কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, এ ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নেবো। আরও কীভাবে নতুন নতুন কারখানা করা যায়, এ ব্যাপারেও আমরা অবশ্যই পদক্ষেপ নেবো। এই এলাকায় হাসপাতাল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।


হাসপাতালের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করবো

ঢাকা-৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেনের ধূপখোলা মাঠের জনসভায় বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি’র সরকার গঠন করলে দেশ গঠনের কাজে হাত দেবো। এটাই হবে আমাদের প্রতিজ্ঞা এবং শপথ। আর এই এলাকায় হাসপাতালের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করবো। এই এলাকার আরও একটি সমস্যা আছে। সেটা হচ্ছে- বুড়িগঙ্গা নদী। এই নদীকে আমাদের ঠিক করতে হবে। এই নদীকে সুন্দর করে আমাদের পরিষ্কার করতে হবে। সর্বশেষ ঢাকা-৭ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদের নির্বাচনী এলাকা লালবাগ বালুর মাঠের জনসভায় বক্তব্য রাখেন- তারেক রহমান।
জনসভায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য সেবা, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রবর্তন, আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার বিষয়ে দলের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন