যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও কর নীতি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরে তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যৌথ মালিক স্যার জিম র্যাটক্লিফ । ক্লাবটির মুসলিম সমর্থক গোষ্ঠী ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মুসলিম সাপোর্টার্স ক্লাব’ (এমইউএমসিএস) তার এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য অভিহিত করে অবিলম্বে তাকে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ক্লাবটির দীর্ঘদিনের মালিক গ্লেজার পরিবারের বিরুদ্ধেও অনাস্থা প্রকাশ করেছে তারা।
গত শনিবার বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে বৃটিশ ধনকুবের ও ইনোস-এর প্রতিষ্ঠাতা র্যাটক্লিফ দাবি করেন যে, অতিরিক্ত কর এবং মাত্রাতিরিক্ত অভিবাসনের কারণেই মূলত বৃটেন আজ পিছিয়ে পড়ছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও তার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সে সময় তিনি বলেন, বৃটেন অভিবাসীদের দ্বারা ‘উপনিবেশিত’ হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে এই মন্তব্যের ভাষার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
তবে র্যাটক্লিফের এই পুনরাবৃত্তিমূলক মন্তব্যের পর ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। এমইউএমএসসি-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা গতবার তার মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলাম। তিনি সে সময় ক্ষমা চাওয়ায় আমরা ভেবেছিলাম তিনি শিক্ষা নিয়েছেন। কিন্তু স্পষ্টতই তা হয়নি। চলতি সপ্তাহে স্যার জিম আবারও অভিবাসন এবং সুযোগ-সুবিধাভোগী মানুষদের দেশের সমস্যার মূল কারণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড়, স্টাফ, স্টুয়ার্ড ও সমর্থকরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি, বর্ণ এবং ধর্মের মানুষ। ক্লাবটির বৈচিত্র্য কোনো দুর্বলতা নয়, বরং শক্তির উৎস। বর্তমান মালিকদের সমালোচনা করে সমর্থক গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, গ্লেজার পরিবার ক্লাবটিকে পতনের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আর র্যাটক্লিফের আগমনে পরিবর্তনের আশা করা হলেও টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি, স্টেডিয়ামের বেহাল দশা এবং মাঠের বাজে পারফরম্যান্স সমর্থকদের হতাশ করেছে।
চলতি মৌসুমে লীগের শুরু থেকেই ধুঁকছে রেড ডেভিলরা। মাত্র চার ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১৩তম তারা। এর ওপর গত বুধবার কারাবাও কাপের ম্যাচে ব্রাইটনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিয়েছে দলটি।
সব মিলিয়ে মাঠের বাজে পারফরম্যান্স ও মাঠের বাইরের একের পর এক বিতর্কিত ঘটনায় ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে সমর্থকদের। বিবৃতিতে পরিষ্কার ভাষায় জানানো হয়েছে, ‘বছরের পর বছর ধরে চলা পতন, ভাঙা প্রতিশ্রুতি এবং ব্যর্থতার পর আমরা বর্তমান মালিকানা কাঠামোর ওপর থেকে সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়েছি। এবার যথেষ্ট হয়েছে, পরিবর্তনের সময় এসেছে। গ্লেজার এবং স্যার জিম র্যাটক্লিফ -উভয়কেই অবশ্যই সরে যেতে হবে।’
