নবীগঞ্জে ড. রেজা কিবরিয়ার নির্ঘুম গণসংযোগ

নবীগঞ্জে ড. রেজা কিবরিয়ার নির্ঘুম গণসংযোগ

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়াকে নিয়ে শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ৮ই ফেব্রুয়ারি নবীগঞ্জ শহরে বিশাল নির্বাচনী জনসভা শেষে ১৩ ইউনিয়নের তৃণমূলে নতুন উদ্যমে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ শুরু হয়। ক্লান্তিহীন গণসংযোগে পৃথকভাবে অংশগ্রহণ করেন ড. রেজা কিবরিয়া ও তার সহধর্মিণী সিমি কিবরিয়া। এসব গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে দলমতনির্বিশেষে বিপুল উপস্থিতি নতুন আবহ তৈরি হয়েছে। গণসংযোগে নজর কাড়েন ড. সিমি কিবরিয়া। তার আবেগঘন বক্তব্য নিয়ে ভোটারদের মধ্যে নতুন ইমোশন তৈরি হয়েছে।
বিএনপি ও বিভিন্ন বৈঠক সূত্র জানায়, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় অংশ নিয়ে বলেন, আমি রাজা হতে নয়, সেবক হিসেবে আপনাদের পাশে থাকার সুযোগ চাই। আমার অনেক বক্তব্য সাইবার বুলিং করে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমি কাউকে কষ্ট দিয়ে কখনো কাউকে কিছু বলি না। তদুপরি আমার কথায় আপনারা কষ্ট পেয়ে থাকলে এলাকার সন্তান হিসেবে ক্ষমা করে দেবেন। তিনি তার মরহুম পিতা শাহ এএমএস কিবরিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করা হিন্দু, মুসলিম প্রবীণ নেতাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দয়া করে আপনারা আপনাদের প্রয়াত সন্তানের স্বপ্ন পূরণে আমাকে তার সন্তান হিসেবে সুযোগ দিন।
এই জীবনে আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমার মরহুম বাবার ইচ্ছা ছিল এলাকার উন্নয়ন। বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর বিচার আমি এখনো পাইনি। তিনি দুনিয়ায় পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি আপনাদের সন্তান ছিলেন। আমি তার একমাত্র সন্তান হিসেবে তার রেখে যাওয়া স্বপ্ন নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি। আমাকে একটিবার সুযোগ দিন। খুশি করতে না পারলে আগামীতে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। দয়া করে তাকে বিমুখ করবেন না। ড. রেজা কিবরিয়ার সহধর্মিণীর বক্তব্য সাধারণ মানুষের হৃদয় জয় করেছে। উঠান বৈঠকে সিমি কিবরিয়ার শেষ মুহূূর্তের কথাগুলো পিনপতন নীরবতায় মানুষ শ্রবণ করছেন। তার আবেগঘন বক্তব্যে অনেকের চোখেই পানি এসেছে। তিনি বলেন, আমার শ্বশুর দেশের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। আপনাদের এলাকার গর্বিত সন্তান ছিলেন। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আপনাদের সন্তান শাহ এএমএস কিবরিয়া কী অপরাধ করেছিলেন আজও আমরা জানি না। যে মানুষটা সারা দুনিয়ায় বিনাখরচে চিকিৎসা পেতেন, তিনি মৃত্যুর সময় সামান্য চিকিৎসাও পাননি। তার একমাত্র সন্তান ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি তার বাবার অকাল মৃত্যু দেখেছেন। স্বামী হত্যার বিচার না দেখে আমার শাশুড়ি আসমা কিবরিয়াও দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। দয়া করে আপনাদের এতিম সন্তান ড. রেজা কিবরিয়াকে বিজয়ী করবেন। আপনারাই তার ভাই, বোন, পিতৃতুল্য অভিভাবক। আমি তার স্ত্রী। তার স্বপ্নের সারথী। এলাকার উন্নয়ন তার মহা পরিকল্পনার সবকিছু আমি জানি। আমি আপনাদের গৃহবধূ হিসেবে এটুকু বলতে চাই, উন্নয়নের জন্য তাকে কিছু বলতে হবে না। যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এবং খেলাধুলার উন্নয়নে তার মহা পরিকল্পনা রয়েছে। দয়া করে আপনারা একটিবার সুযোগ দিন। গৃহবধূ ও আপনাদের জেলার সন্তান হিসেবে নিশ্চয়তা দিচ্ছি আপনারা ঠকবেন না। নির্বাচনী গণসংযোগ বন্ধের নির্দেশনা মেনে আর হয়তো আপনাদের সামনে আসতে পারবো না। নির্বাচনে বিজয়ী হলে আপনাদের উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আবারো আপনাদের নিয়ে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডভিত্তিক মতবিনিময় হবে। সিমি কিবরিয়া বলেন, আমি একজন নারী ও আপনাদের গৃহবধূ হিসেবে আমার স্বামী ড. রেজা কিবরিয়াকে বিজয়ী করার জন্য আপনাদেরকে বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি। আমি রাজনীতিবিদ নই, সাধারণ একজন গৃহবধূ। আমার কথায় কোনো প্রকার কষ্ট পেয়ে থাকলে দয়া করে ক্ষমা করে দিবেন। শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ ও ড. রেজা কিবরিয়াকে নিয়ে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মতিউর রহমান পিয়ারা বলেন, এলাকায় উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশনায়ক তারেক রহমান একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তি আমাদের উপহার দিয়েছেন। এ সুযোগ আগামী ৫০ বছরেও আর আসবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। তিনি ১২ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দলমতনির্বিশেষে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন