ঢাকা ১৫

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

ফন্ট সাইজ:

আজ সকালে শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা। সোমবার ছিল নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন। শেষ দিনের প্রচারণায় ব্যাপক গণসংযোগে সরগরম ছিল ঢাকা-১৫ আসন। এ আসনে আলোচনায় জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর  রহমান ও বিএনপি প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। যদিও আরও ৮ দলের প্রার্থীরা রয়েছেন প্রতিযোগিতায়। তবে ভোটের মাঠে লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই। লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। মিরপুর এলাকার ডিএনসিসি’র ৪, ১৩, ১৪নং ওয়ার্ড, ক্যান্টনমেন্ট থানার ডিএনসিসি ১৬নং ওয়ার্ড মিলিয়ে ঢাকা-১৫ আসন। আসনটিতে দু’জন প্রার্থীরই জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে জামায়াত আমীর দলীয় প্রধান হিসেবে বাড়তি আলোচনায় রয়েছেন।
২০১৮ সালে ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমান জোটের হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন। নানা বিতর্ক ওঠা ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদারের কাছে হেরেও যান তিনি। এবার তিনি লড়ছেন নিজ দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে। ফলে বিজয় নিশ্চিত করতে জামায়াতের পূর্ণ সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। জামায়াত আমীরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে বিএনপি’র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনও প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন সমানতালে। প্রচারণার শেষ দিন ঢাকা-১৫ আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সেখানকার নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসনটিতে দু’জন প্রার্থীরই রয়েছে সমান গ্রহণযোগ্যতা। ভোটের মাঠে টানটান লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছেন ভোটাররা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা ও এডভোকেসি সংস্থা ‘সোচ্চার’-এর করা জরিপে উঠে এসেছে, নির্বাচনে ঢাকার চারটি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। তার মধ্যে ঢাকা-১৫ একটি। পূর্ব মণিপুর এলাকার বাসিন্দা শফি বলেন, আমরা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন। আমি রাজনীতি করি না, কিন্তু ভোট দিতে চাই।
মিরপুর-১০-এর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আরিফ বলেন, মিরপুর এলাকায় জামায়াতের আমীরের প্রচারণা কম হলেও জনপ্রিয়তা বেশি।
মিরপুর-১৩ এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, এ এলাকায় অনেক মাদ্রাসা। সেজন্য মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের বড় অংশ জামায়াতের সমর্থন ছিল। কিন্তু সমর্থকদের একটা বড় অংশ হাতপাখার দিকে চলে যাবে। জামায়াত জোটে থাকলে সমস্যা ছিল না। এখন আমীরের ভোট অনেকটাই চলে যাবে হাতপাখায়। তাই কিছুটা শঙ্কা আছে।
কাফরুল এলাকার একটি ইলেক্ট্রনিক্স শোরুমের মালিক হৃদয় হাসান বলেন, আমার জন্ম এই এলাকায়। এই এলাকায় বিএনপি’র নেতাকর্মী-সমর্থক বেশি বলেই দেখছি। তবে আমি নিজেই বিএনপি’র পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি। জামায়াত আমীর আর বিএনপি’র প্রচারণা সমান থাকলেও ভোটের মাঠে বিএনপি প্রার্থীকে এগিয়ে যেতে দেখছি। বাকিটা ভোটের দিন বোঝা যাবে। শেনপাড়া এলাকার বাসিন্দা তামিম বলেন, এই এলাকায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। মিল্টনের আলাদা জনপ্রিয়তা আছে, যেহেতু পুরাতন এই এলাকার। আবার জামায়াত আমীর যেহেতু একটা দলের প্রধান সেই হিসেবে তার জনপ্রিয়তাও আলাদা জায়গায়। তবে সভা-সমাবেশ-প্রচারণা সব কিছুতেই দু’জনের সমান। এখন অপেক্ষা ভোটের ফলাফলের।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন