সুনামগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের হাত থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে রড ও হেক্সো ব্লেডের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়েছেন এক পিতা। ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। এ ঘটনায় জেলা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আগামী রোববার দুপুরে শহরের আলফাত স্কয়ার প্রাঙ্গণে ‘সুনামগঞ্জের সচেতন অভিভাবক’ ব্যানারে মানববন্ধনের ডাক দেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে পৌর শহরের প্রিয়াঙ্গণ মার্কেটের সামনে ছেলেকে কিশোর গ্যাংয়ের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে মারাত্মক হামলার শিকার হন এমদাদুল হক শাহজাহান। তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
এ ঘটনায় আহত শাহজাহানের শ্যালক জুনায়েদ আহমেদ বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। মামলার আসামিরা হলো- পূর্ব সুলতানপুরের সৈয়দ আলীর ছেলে জুনাব আলী (৫৫), তার ছেলে শ্রাবণ (২১), হাছননগরের মুহিবুর রহমানের ছেলে সায়মন (২০) এবং সদর হাসপাতাল স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দা বুরহান উদ্দিনের ছেলে হিমেল। স্থানীয়রা জানান, আহত শাহজাহানের ছেলে এহসানুল হক নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন কিশোর তাকে মারধর করে আহত করে। বিষয়টি থানা কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর মঙ্গলবার বিকালে হাছননগর ময়নার পয়েন্টে খালার বাসা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হলে অভিযুক্তরা তাকে ঘেরাও করে।
এ সময় থানায় অভিযোগ করার কারণ জানতে চেয়ে তার সঙ্গে তর্কে জড়ায় তারা। ঘটনাটি দেখে এক প্রত্যক্ষদর্শী মোবাইল ফোনে এহসানুলের বাবা শাহজাহানকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে তিনি মোটরসাইকেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে ছেলেকে আটক করার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা রড ও হেস্কো ব্লেড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তারে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
