নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তহশিলদার, কম্পিউটার অপারেটর ও পিয়নের যোগসাজশে দলিলের টেম্পারিং করে জমা খারিজ সৃজনকে ঘিরে জেলা জুড়ে টক অব দ্য টাউন। একই তারিখের একই দলিল নম্বর ও একই স্ট্যাম্প নম্বর ব্যবহার করে জমির দলিল সৃজন এবং এর ভিত্তিতে ভুয়া নামজারি খতিয়ান খোলার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় গত ২৮শে জুলাই নামজারি খতিয়ান বাতিল ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সাদাত হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম। অভিযোগে রহিম উল্লেখ করেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরের মৃত মকবুল আহমদের ছেলে রফিক উল্যাহ ১৯৯৯ সালের ২৮শে অক্টোবর সাব-কবলা দলিল নম্বর ১০৮৪৪ মূলে মোক্তার হোসেন ও ছাবির হোসেনের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে মালিক হন। তবে অভিযোগকারী দাবি করেন, একই দলিল নম্বর ১০৮৪৪ ও একই স্ট্যাম্প নম্বর ৯০৬৩৮৫০ ব্যবহার করে একই তারিখে মোহাম্মদ সোলেমানের কাছ থেকে আরেকটি সাব-কবলা দলিল সৃজন করা হয়েছে। অভিযোগে এটিকে জাল, ভুয়া ও প্রকৃত অবস্থার বিপরীত দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই দলিলের ভিত্তিতে জমাখারিজ খতিয়ান নম্বর ২০২৬-১০০৩০০০ নিজ নামে সৃজন করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারণা, জাল দলিল তৈরি ও ব্যবহারের অভিযোগ এনে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৭১/১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ করা হয়েছে। রহিম অভিযোগে করে বলেন, একলাশপুর ইউনিয়নের তহশিলদার দেলোয়ার হোসেন, একই অফিসের কম্পিউটার অপারেটর জনি ও পিয়ন হারুনের যোগসাজশে দলিলের বিক্রেতার কলামে টেম্পারিং করা হয়। পরে তার প্রতিবেদনের আলোকে ওই জাল জমাখারিজ খতিয়ান সৃজন করা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে নামজারি খতিয়ানটি বাতিল এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। বিবাদী রফিক উল্যার ছেলে জাহিদ হোসেন রাব্বি মুন্সি বলেন, আমরা আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি নামজারি করার জন্য আবেদন করেছি। আমরা এ বিষয়ে রায় পেয়েছি। আমরা রায় পাওয়ার আগে থেকেই বাদী ওই জায়গার দখলে ছিল। এরপর বাদী জায়গাটি ক্রয় করার জন্য আমাদের সঙ্গে বায়না চুক্তি করেন। যখন আমরা জায়গাটি নামজারি করি, তখন বাদী আবার এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে একলাশপুর ইউনিয়নের তহশিলদার দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাদীর অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগকারীকে তার দলিল নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। তিনি এখনো আসেননি। আসলে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন হবে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সাদাত হোসেন মানবজমিনকে বলেন, তহশিলদারকে এ ঘটনায় দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হবে।
