নাগোয়ার চোখ ধাঁধানো গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে আজ নামছে বাংলাদেশ হকি দল। ম্যাচটিতে গেরহার্ড পিটারের শিষ্যদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায়। আধুনিক এবং সুসজ্জিত এই গ্রাউন্ডে শেষের শুরু করবেন বাংলাদেশের হকির অন্যতম তারকা রাসেল মাহমুদ জিমি। এবারের এশিয়ান গেমসই সম্ভবত জাতীয় দলের জার্সিতে জিমির শেষ কোনো প্রতিযোগিতা। যা তাকে এবারের এশিয়ান গেমসে এনে দেবে অনন্য এক স্বীকৃতি। ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ খেলেন রাসেল মাহমুদ জিমি। সেই মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে শুরু করে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এসে নাম লিখিয়েছিলেন রেকর্ডের পাতায়। এশিয়ার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি এশিয়া কাপে খেলে অনন্য কীর্তি গড়েন জিমি। তার স্বীকৃতি স্বরূপ এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) তাকে সম্মাননাও দিয়েছে। এবার এশিয়ান গেমসেও অনন্য অর্জনে নাম লেখাচ্ছেন দেশের হকির এই পোস্টার বয়।
নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে পঞ্চম এশিয়ান গেমসের মাঠে নামতে যাচ্ছেন তিনি। জিমি আগে চার সংস্করণে খেলেছেন- ২০০৬ দোহা, ২০১০ গুয়াংজু, ২০১৮ জাকার্তা-পালেমবাং এবং ২০২২ হাংজু। ২০১৪ ইনচন এশিয়ান গেমসে খেলতে পারেননি ইনজুরির কারণে। এশিয়ান গেমসের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার শুটার সন হে-কিয়ং ৬ এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়া তৃতীয় কোরিয়ান ক্রীড়াবিদ হন। একই রেকর্ড করেছিলেন হ্যান্ডবলার ইউন কিয়ং-শিন ও শুটার পার্ক বিয়ং-টেক। আর জিমি পাঁচটি আসরে খেলেই তার পরের স্থানে। পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে ২০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক অর্জন করার সুযোগ আছে জিমির সামনে। এখন পর্যন্ত দেশের জার্সিতে ১৯৪ ম্যাচ খেলেছেন জিমি। আর মাত্র ছয় ম্যাচ দরকার। এশিয়ান গেমসে গ্রুপপর্ব ও পজিশন ম্যাচ মিলিয়ে তাও পূর্ণ হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এশিয়ান গেমস খেলেই তিনি জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন। যেখানে তার জাতীয় দলের দুয়ার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে এশিয়ান হকির অন্যতম সেরা ও সফল দল দক্ষিণ কোরিয়া। অতীত ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে তাদের সঙ্গে টেক্কা দেয়ার মতো অবস্থানে নেই বাংলাদেশ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের হকিতে ছড়িয়ে পড়েছে সৌরভ। জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলা, আমিরুল ইসলামের মতো তারকার আর্বিভাব হকিতে লাল সবুজের দলটি প্রতিপক্ষের কাছে এখন শক্তিশালী।
তাই হকি দলের স্বপ্নটাও এখন আকাশচুম্বী। সেই স্বপ্নটা শুধু ভালো খেলার নয়, বরং জয়ের। কোরিয়ার বিপক্ষে তিন পয়েন্টের লক্ষ্যের কথা বলেছেন আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কোরিয়ার সঙ্গে ভালো রেজাল্ট করতে চাই। আমাদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে ম্যাচের ফল আসলে কী হবে। তবে আমরা দল হিসেবে আত্মবিশ্বাসী।
অবশ্যই কোরিয়ার সঙ্গে জিততে চাই।’ এশিয়াডে সাফল্যের জন্য গতকাল জাপানে আরও দু’জন জার্মান কোচ যোগ দিয়েছেন দলের সঙ্গে। এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে সাফল্যের গল্প লেখার সুযোগ তো এটাই। আর কোরিয়ার বিপক্ষে তিন পয়েন্ট পেলে সেরা চারে থাকার পথটাও মসৃণ হবে বাংলাদেশের। রুপকথার গল্প লেখার সাহসটা রাসেল মাহমুদ জিমি-আাশরাফুল ইসলামদের দিচ্ছে বিশ্ব হকির র্যাঙ্কিংয়ে। বাংলাদেশের (২৮) চেয়ে পাঁচ ধাপ ওপরে দক্ষিণ কোরিয়া (২৩)। র্যাঙ্কিংয়ে এই পার্থক্য বলে দিচ্ছে দু’দলের মধ্যে লড়াইটা হবে জমজমাট।
