এবারের এশিয়ান গেমসের শুরুটা একদমই ভালো হয়নি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের। প্রথম ম্যাচে পিটার বাটলারের অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ গোল হজম করে আফঈদা-মারিয়ারা। ওই লজ্জার থেকে শিক্ষা নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় সেরা একাদশই নামিয়েছিলেন এই বৃটিশ কোচ। তবে ঋতুপর্ণা, রূপনা, মনিকা, শিউলী আজিমরা সুবিধা করতে পারেননি। প্রথমার্ধেই বাংলাদেশ হজম করে দুই গোল। দ্বিতীয়ার্ধে আরো চারটি। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ হারে ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের বৃটিশ কোচ পিটার বাটলার বরাবরই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেন। উত্তর কোরিয়ার মতো প্রতিপক্ষের সঙ্গে সিনিয়রদের বাইরে রেখেই একাদশ সাজান বাটলার। রূপনা চাকমার বদলে গোলপোস্টে আস্থা রাখেন মিলি আক্তারের ওপর। সেই খেসারত দিতে হয় প্রথমার্ধে সাত গোল হজম করে। গতকাল সেই ভুল না করে সকল সিনিয়র ফুটবলার দিয়ে একাদশ সাজান। দক্ষিণ কোরিয়া নারী ফুটবলে এশিয়া তো বটেই, বিশ্ব ফুটবলেই পরাশাক্তি। সেই দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রথমার্ধ শেষে ০-২ গোলে পিছিয়ে। ম্যাচের ১৭ মিনিটে কর্নার থেকে গোল পায় দক্ষিণ কোরিয়া। বক্সে জটলার মধ্যে কিম মিং জি লাফিয়ে হেড করেন। বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররাও লাফালে বল পাননি। পাশাপাশি গোলরক্ষক রূপনা চাকমা চেষ্টা করেও বল থামাতে পারেননি। ঋতুপর্ণা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও তিনি তার দক্ষতা প্রদর্শনের চেষ্টা করেছেন। বল নিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটেছেন কিছু সময়। মিডফিল্ড কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাদেশ লড়াই করেছে।
একাদশে ফিরে গোলরক্ষক রূপনা চাকমাও কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করেছেন। ৪২ মিনিটে বাংলাদেশ আরেক দফা পিছিয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের মাঝ থেকে থ্রু ঠেলেন কোরিয়ান ফরোয়ার্ড। গোলদাতা কোরিয়ান ফুটবলারের পজিশন খানিকটা অফসাইডে মনে হলেও বাংলাদেশের ফুটবলাররা কোনো আপিল করেননি। দুই গোলে পিছিয়ে থেকে ড্রেসিংরুমে ফেরেন ঋতুপর্ণারা।
বিরতির পর প্রথমার্ধের বাংলাদেশকে পাওয়া যায়নি। এই অর্ধে বাংলাদেশ চার গোল হজম করে। ৬৫ মিনিটে কোরিয়ার গোল উৎসব শুরু হয়। নিয়মিত বিরতিতে আরো চার গোল আদায় করে কোরিয়া। ইনজুরি সময়ে আরও এক গোল হজম করলে বাংলাদেশের বিপক্ষে স্কোরলাইন হয় ৬-০। আগামী ২১শে সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের সঙ্গে গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে মেয়েরা।
