র‌্যাঙ্কিংয়ের জোরে সেমিফাইনালে জ্যোতিরা

ভেজা মাঠে বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ পরিত্যক্ত

র‌্যাঙ্কিংয়ের জোরে সেমিফাইনালে জ্যোতিরা

ফন্ট সাইজ:

দুইদিন পর সূর্যের দেখা মিলেছে নাগোয়ার আকাশে। সকাল থেকেই ঝলমলে রোদ। তবুও নিশিন সিটির কোরোগি অ্যাথলেটিক পার্কে এশিয়ান গেমসের বাংলাদেশ-চীন নারী ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালের একটি বলও মাঠে গড়ালো না। কারণ, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ভেজা আউটফিল্ড আর শুকায়নি। শেষ পর্যন্ত র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ১০ নম্বরে, চীন ৩৬তম।

ম্যাচটি মাঠে গড়ালেও ফলাফল হয়তো এমনই হতো- চীনকে হারিয়ে বাংলাদেশই নিশ্চিত করতো সেমিফাইনাল। যে কারণে বাংলাদেশের দিক থেকে বিষয়টি স্বাভাবিক হলেও, অনেকটাই ক্ষতি হয়েছে চীনের। কারণ চীনের নারী দলের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় ম্যাচ। ২০১০ এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে চীনকে ৩৪ রানে অলআউট করে ৭ ওভারে ৯ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু সেই ম্যাচের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছিল না। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে গতকালই প্রথম ম্যাচ ছিল চীনের। কিন্তু বেরসিক বৃষ্টিতে সেই ম্যাচ আর হলো না।

নাগোয়ার টিম হোটেল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নিশিন সিটির কোরোগি স্পোর্টস পার্ক। এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটের সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে এই ভেন্যুতে। এবার ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিয়ে শক্তিশালী দল দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাও প্রায় জাতীয় দলই পাঠিয়েছে। নারী বিভাগে অবশ্য আগে থেকেই জাতীয় পর্যায়ে ক্রিকেট খেলে আসছে দলগুলো। কিন্তু জাপান গেমসে ক্রিকেটের জন্য যে মাঠ তৈরি করেছে, তা মোটেও আন্তর্জাতিক মানের না। তার প্রমাণ এরইমধ্যেই মিলেছে। গতকাল নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠে চলে আসে বাংলাদেশ ও চীন- দুই দলই। মাঠে নেমে ওয়ার্মআপও করেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু আউটফিল্ডের অবস্থা দেখে খেলা শুরুর ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা মিলছিল না। সময় গড়াতে থাকে, বাড়তে থাকে অপেক্ষা। আউটফিল্ড পরিদর্শনে আম্পায়াররা তিনবার মাঠে যান। কিন্তু বল মাঠে গড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ পরিত্যক্তের সিদ্ধান্ত আসে। নাগোয়ায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচের দিন সকালে রোদ উঠলেও মাঠে আগের বৃষ্টির ক্ষত সারেনি। ফলে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়াও শেষ পর্যন্ত সকালে ক্রিকেট ফেরাতে পারেনি কোরোগি অ্যাথলেটিক পার্কে। তবে দুপুরে থাইল্যান্ড-পাকিস্তানের মধ্যে কার্টেল ওভারে দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালটি অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে থাইল্যান্ডকে তিন উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল।

এবার এশিয়ান গেমসে ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। তবে পদকের বড় প্রত্যাশা ক্রিকেটের দুই ইভেন্ট ঘিরেই। এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের অভিষেক ২০১০ সালের গুয়াংজু আসরে। সেই আসরেই পুরুষদের ইভেন্টে স্বর্ণ জিতে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। নারী ক্রিকেটে পেয়েছিল রুপা। চার বছর পর ইনচনেও রুপা ধরে রাখে বাংলাদেশের মেয়েরা। দুই আসরের ফাইনালেই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান।

২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট ছিল না। ২০২৩ সালের হাংজু আসরে ক্রিকেট ফিরলেও ফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জেতে মেয়েরা। এশিয়ান গেমসে এখন পর্যন্ত তিনবার হয়েছে নারী ক্রিকেট। প্রতিবারই পদক জিতেছে বাংলাদেশ- প্রথম দুই আসরে রুপা, সর্বশেষ আসরে ব্রোঞ্জ। এবারও অন্তত একটি পদক জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে জাপানে এসেছে দল। সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় সেই প্রত্যাশা এখন আরও এক ধাপ এগিয়েছে। ৮ দলের অংশগ্রহণে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব দিয়ে শুরু হয়েছে নারী ক্রিকেটের লড়াই। বাংলাদেশ-চীন ম্যাচটিই ছিল প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল। আজ তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক জাপানের মুখোমুখি হবে ভারত। বিজয়ী দলের বিপক্ষে আগামী ২০শে সেপ্টেম্বর সেমিফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ।