দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েরা যতটা উজ্জ্বল; তার বিপরীত চিত্র এশিয়ার মঞ্চে। সাফে দেখানো নৈপুণ্যের ধারেকাছে নেই তারা। আর দুই কোরিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর এ পার্থক্যকে ‘আকাশ-পাতাল’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার। জাপানের আইচি নাগোয়ায় গতকাল দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ গোলে হারে পিটার বাটলারের দল। গ্রুপ পর্বে দুই কোরিয়ার কাছে মোট ১৬ গোল হজম করে বাংলাদেশ। হারের পর এশিয়ান পরাশক্তিদের বিপক্ষে লড়াইয়ে নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতির কথা স্বীকার করে বাটলার বলেন, ‘বর্তমানে এই পর্যায়টি আমাদের জন্য বড্ড বড় একটি ধাপ। আমি ‘বর্তমানে’ কথাটির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছি। এশিয়ান পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যে ধরনের অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা আমাদের এখনও গড়ে ওঠেনি। প্রতিপক্ষ দলগুলো অলিম্পিক, এশিয়ান কাপ কিংবা এশিয়ান গেমসের মতো আসরে বছরের পর বছর ধরে নিয়মিত খেলছে।
তাই এ ধরনের বিশ্বমানের দলের কাছে হারায় কোনো লজ্জা নেই।’ নারী সাফে ২০২২ এবং ২০২৪ সালে পরপর দুবার শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। এরপরই এএফসি উইমেনস এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করেন ঋতুপর্ণারা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া এ বছরের মার্চে এশিয়ান কাপে খুব একটা ভাল করতে পারেনি বাংলাদেশ। এরপর সাফের ট্রফি হাতছাড়া। এবার এশিয়ান গেমসেও টানা দুই ম্যাচে হার। সবমিলিয়ে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের নারী ফুটবল। তবে এশিয়া ও সাফের মঞ্চকে এক পাল্লায় না মাপার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ বলেন, ‘সাফ পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করা আর এশিয়ান গেমস বা এশিয়ান কাপের ফুটবলে লড়াই করার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। দুটো কখনও এক হতে পারে না। আমরা হয়তো আমাদের ছোট ছোট আঞ্চলিক সাফল্যের শিকার হয়ে পড়েছি, কিন্তু এশিয়ান ফুটবলের মূল ধারায় টিকতে হলে আমাদের আরও অনেক সময় ও সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।’ পিটার বাটলার প্রথম দুই ম্যাচকে অভিজ্ঞতা অর্জন ও দল পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ২১শে সেপ্টেম্বর মিয়ানমার ম্যাচকে সামনে রেখে মূল পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন তিনি। মিয়ানমার কোচের কৌশল ও প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা রয়েছে জানিয়ে বাটলার বলেন, ‘আমরা কিছু পরিবর্তন এনেছিলাম, খেলোয়াড়দের বাজিয়ে দেখেছি।
এই কঠিন অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। এখন আমাদের প্রধান কাজ হলো ধাক্কা সামলে নিয়ে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়া এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইতিবাচক ফুটবল উপহার দেয়া।’ দুই ম্যাচ হারলেও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারকে হারানো গেলে তৃতীয় সেরা দল হয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ আছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের।
