নিরাপত্তার কারণে হকি এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন ট্রফি খেলতে ভারতে যাবে না পাকিস্তান। গতকাল পাকিস্তান হকি ফেডারেশন জানায়, দুই দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে জাতীয় দলকে পাঠানো নিরাপদ নয়। তাই এশিয়ান হকি ফেডারেশনের কাছে এশিয়ান চ্যাম্পিনস ট্রফি অন্য কোনো ‘নিরাপদ’ দেশে সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছে। পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও সুপারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান নাম প্রত্যাহার করলে টুর্নামেন্টে সুযোগ পেতে পারে বাংলাদেশ ও ওমান, যাদের রাখা হয়েছে রিজার্ভ দল হিসেবে।
২৭শে অক্টোবর থেকে ৫ই নভেম্বর পর্যন্ত মোহালি এবং জলন্ধরে ছয় দলের এশিয়ান চ্যাম্পিনস ট্রফি হওয়ার কথা। যেখানে পাকিস্তানের অংশ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তান হকি ফেডারেশন (পিএইচএফ) জানিয়ে দিয়েছে, ভারতে অনুষ্ঠেয় এই আসরে তারা দল পাঠাবে না। এই সিদ্ধান্তের পেছনে দুটি শর্তের কথা জানিয়েছে পিএইচএফ। প্রথমত, টুর্নামেন্টটি ভারত থেকে অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নিতে এশিয়ান হকি ফেডারেশনের (এএইচএফ) কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে তারা। সেটি সম্ভব না হলে অন্তত পাকিস্তানের ম্যাচগুলো যেন নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করা হয়, সেই দাবিও তুলেছে সংস্থাটি। এ প্রসঙ্গে দুই দেশের বর্তমান রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন পিএইচএফ সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ ওয়ানি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের বর্তমান স্পর্শকাতর সম্পর্ক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত (ভারতে দল না
পাঠানো) নেওয়া হয়েছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই উদ্দেশ্য।’ ভারত, পাকিস্তান, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে খেলা নিয়ে অবশ্য পাকিস্তানের কোনো আপত্তি নেই বলে স্পষ্ট করেছেন ওয়ানি। তিনি বলেন, ‘ভারতসহ এফআইএইচের (আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন) সব সদস্য দেশের বিপক্ষেই খেলতে পাকিস্তান প্রস্তুত। একই সঙ্গে খেলাধুলাকে রাজনীতিমুক্ত রাখার নীতির প্রতিও আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’ পাকিস্তান নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার আগে ভারতের পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান দেশটির এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘বহুজাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া ভারতের নীতির মধ্যে রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।’ এবারের আসরে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অংশ নিচ্ছে ভারত। ২০২৩ সালে চেন্নাইয়ে স্বাগতিক হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২৪ সালে চীনের হুলুনবুইরেও শিরোপা ধরে রাখতে সফল হয় তারা। এবার সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগ। গত বছর তামিলনাড়ুতে অনুষ্ঠিত জুনিয়র বিশ্বকাপ হকি টুর্নামেন্ট থেকেও একই কারণ দেখিয়ে নাম প্রত্যাহার করে পাকিস্তান।
